ব্রি হাইব্রিড ধান ৮: হেক্টরপ্রতি ফলন হবে ১১ টন

বোরো মৌসুমের নতুন জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‌ব্রি হাইব্রিড ধান ৮। নতুন এ ধানে হেক্টরপ্রতি ফলন মিলবে সাড়ে ১০ টন থেকে ১১ টন।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সন্মেলন কক্ষে জাতীয় বীজবোর্ডের ১০৮তম সভায় নতুন এ জাতের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়াও নতুন জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ব্রি উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের জাত ‌ব্রি ধান ১০৩ ও বাসমতি ধরনের সুগন্ধি জাত ব্রি ধান ১০৪।

সভাসূত্রে জানা যায়, ব্রি হাইব্রিড ধান ৮ জাতের ধানগাছের উচ্চতা ১১০ থেকে ১১৫ সেন্টিমিটার। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১০ থেকে ১২টি। দানার পুষ্টতা ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ, জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন।

এছাড়া নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান ১০৩ জাতটির পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১২৫ সেন্টিমিটার। ডিগ পাতা খাড়া, দানা লম্বা ও চিকন। ১ হাজার পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩ দশমিক ৭ গ্রাম। ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৪ শতাংশ। এ জাতটির গড় জীবনকাল ১৩২ দিন, গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ২ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে জাতটি প্রতি হেক্টরে ৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

ব্রি ধান ১০৪-এ আধুনিক উফশী ধানের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, পাতার রং সবুজ। পূর্ণবয়স্ক একটি গাছের গড় উচ্চতা ৯২ সেন্টিমিটার। জাতটির গড় জীবনকাল ১৪৭ দিন। ১ হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২১ দশমিক ৫ গ্রাম। এ জাতের ধান বাসমতি চালের মতো তীব্র সুগন্ধযুক্ত। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৯ দশমিক ২ ভাগ। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৮ দশমিক ৯ ভাগ, ভাত ঝরঝরে। এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ৫০ এর প্রায় সমান। এ ধানের চালের আকৃতি অতিরিক্ত লম্বা ও চিকন। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান ৫০ এর চেয়ে ব্রি ধান ১০৪ এর ফলন প্রায় ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শীর্ষ ছয় স্থানে এটি ব্রি ধান ৫০ এর চেয়ে ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের হেক্টরে গড় ফলন ৭ দশমিক ২৯ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি হেক্টরে ৮ দশমিক ৭১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। ব্রি ধান ১০৪ এ রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম হয়।