সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এপ্রিলে উদ্বোধন

এপ্রিলে উদ্বোধন করা হবে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ। প্রকল্পটির মেয়াদ এ পর্যন্ত চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ ও ৫শ’ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হলেও নার্সিং কলেজের কাজ এখনও শেষ হয়নি। মেডিক্যাল কলেজটি ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হলেও এখনো হস্তান্তর হয়নি হাসপাতালটি।

মেডিক্যাল কলেজের অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ৫২টি আসন নিয়ে শেখ সায়ের খাতুন মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতি ব্যাচে ৬৫ জন করে ৫টি ব্যাচে ৩শ’ ২৫ শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়নরত। ১টি ব্যাচ গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্ন বা শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ করছে। শুরু থেকে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চললেও গতবছরের মাঝামাঝি থেকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে।

শেখ সাহেরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় মেসিনারী স্থাপন করা হলেও এখনও কোন অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ডাক্তার, নার্স, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি ও আউট-সোর্সিং মিলে মোট ৫ শ’ ৭টি পদ থাকলেও এ পর্যন্ত নিয়োগ হয়েছে মাত্র ৯ জনের। ৪শ’ ৯৮টি পদই শূন্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও ওষুধ সরবরাহ হলেই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কে.এম. হাসান উজ জামান জানিয়েছেন, শেখ সায়ের খাতুন মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ২০১১ সালে শুরু হলেও প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১২ সালে। গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল-সংলগ্ন নবীনবাগ এলাকায় এ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে লেগে যায় ৬ বছর। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ এ পর্যন্ত চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারীর মৃত্যুজনিত কারণে পুনঃটেন্ডার আহ্বান এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের কারণে নার্সিং কলেজের নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে।

সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরে প্রকল্প পরিচালক ডা. অসিত মল্লিক জানিয়েছেন, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬শ’ ৩৩ কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৯৩.০১ শতাংশ এবং গড় ভৌত অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ। প্রকল্পের মোট ৫২টি ভবনের মধ্যে ৪৩টি ভবনের কাজ শেষ হয়েছে।