প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলার প্রত্যয়

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মন্দাসহ এ ধরনের পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য কতটা উদ্বেগের তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি, জনগণের সহায়তায় বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সংকট আসবে। সংকটে ভয় পেলে চলবে না। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার। মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষের ভোগান্তি হোক, কষ্ট হোক- তা আমরা কখনই চাই না।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এটিও বলেন, ‘বৈশ্বিক কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। তা এখন অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাচ্ছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ কোনো জিনিসের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা সমন্বয় করব।’

উল্লেখ্য, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা বলতে চাই, বৈশ্বিক কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। তা এখন অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাচ্ছে- ফলে এটি আশাব্যঞ্জক এবং স্বস্তিদায়ক। এ ছাড়া সংকটে ভয় পেলে চলবে না বলে যে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সঙ্গত কারণেই এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে এবং তা আমলে নিয়ে যে কোনো সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমলে নেওয়া দরকার, ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জন, বিশ্বে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হত্যাকান্ড, চলমান বিভিন্ন গুজবসহ একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও পদক্ষেপ জানানোর পাশাপাশি জনগণের প্রতি বিভিন্ন আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিতে সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।

বলা দরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণকে সম্মিলিতভাবে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের বিজয়ের ৫১ বছর পূরণ হলো। আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের দারিদ্র্য-ক্ষুধামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। একটি সুখী-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করব।’

এ ছাড়া কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের মাটি উর্বর। মাটিতে বীজ ফেললেই যেখানে গাছ জন্মে, সেখানে বাইরে থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করতে হবে কেন? এক ইঞ্চি জমিও পতিত না রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার বিষয়ে অযথা গুজবে কান না দেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ব্যাংকে টাকার কোনো ঘাটতি নেই। বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান।

বিশ্ব এক অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী এটিও আলোকপাত করেন, ‘২০১৯ সালের শেষদিকে করোনাভাইরাস মহামারির কবলে পড়ে বিশ্ব। ২০২০ এবং ২০২১- এই দুই বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। অনেক দেশের অর্থনীতিতে ধস নামে। আমাদের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ে। করোনাভাইরাস মহামারির সেই ক্ষতি কাটিয়ে যখন আমাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক অবরোধ-পাল্টা অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলেও তিনি উলেস্নখ করেন।

আর সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের প্রাণহানি যেমন কমাতে পারা গেছে, তেমনি অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। আমরা বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে যে বিষয়গুলো আলোকপাত করেছেন তার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রত্যেকের কাজ করতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।