তুলে ধরা হলো বিভিন্ন বাহিনীর আধুনিকায়নসহ দেশের উন্নয়ন

সশস্ত্র ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নসহ দেশের উন্নয়নকে উপজীব্য করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২২’। গতকাল জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

বাসস জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ ও নাতনি সামা হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তিন বাহিনীর প্রধানরা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা, মিডিয়ার ব্যক্তিরা, অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাংলাদেশ জেল এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এই কুচকাওয়াজে অংশ নেয়।

আইএসপিআর জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ ও জাতির উন্নয়ন, সশস্ত্র এবং আধাসামরিক বাহিনীগুলোর আধুনিকায়নের বিষয়টি এই কুচকাওয়াজে উপজীব্য হয়ে ওঠে।

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল। প্যারেড উপ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খালেদ কামাল। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ২৩টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিক হামিদ এবং জাতিসংঘ কন্টিনজেন্টের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৮১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ ব ম আব্দুল বাতিন ইমানী। কুচকাওয়াজের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর পর সুসজ্জিত বাহনে মুক্তিযোদ্ধা কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানায়। চিত্রাকর্ষক যান্ত্রিক বহরে সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্রগুলো প্রদর্শন করা হয়। আধুনিক সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত সশস্ত্র বাহিনীর বিশ্বমানের সক্ষমতা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়ে রণপ্রস্তুতির বাস্তব অবস্থা তুলে ধরা হয়। আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, র‌্যাব ফোর্সেসের ফ্লাইপাস্ট, প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প কুচকাওয়াজকে আকর্ষণীয় করে তোলে।