বন্দরে ১৪৮ কোটি টাকায় বসছে অত্যাধুনিক ৬ কন্টেনার স্ক্যানার

চট্টগ্রাম বন্দরে চারটিসহ মোট ৬টি নতুন অত্যাধুনিক কন্টেনার স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের কাজ পেয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘নাকটেক কোম্পানি লিমিটেড।’ এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এরই মধ্যে চীনা এ প্রতিষ্ঠানটিকে ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটি আগামী পাঁচ বছর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা আমদানির পণ্য পরীক্ষায় কন্টেনার স্ক্যানিং কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমদানি ও রপ্তানির শতভাগ পণ্যের কায়িক পরীক্ষা সম্ভব নয়। বন্দরে আগে থেকেই রয়েছে স্ক্যানার। কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য যুক্ত হচ্ছে আরও ৬টি ‘ফিক্সড কন্টেনার স্ক্যানার’ মেশিন। সংগ্রহের পরিকল্পনা বেশ আগেই হলেও দফায় দফায় তা বিলম্বিত হয়েছে।

অবশেষে গত সোমবার দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড প্রেরণ করে চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে সাত দিনের মধ্যে চুক্তিপত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৮ দিনের মধ্যে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জামানত দিয়ে ৮ জানুয়ারির মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, অত্যাধুনিক ৬টি কন্টেনার স্ক্যানার স্থাপনের লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চ মাসে। কিন্তু নানা জটিলতায় টেন্ডারের তারিখ চার দফা পিছিয়ে যায়। অবশেষে গত ২৫ আগস্ট টেন্ডার শেষে তিন প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বিবেচিত হয়, যা পাঠানো হয় মূল্যায়ন কমিটির কাছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়াটির ব্যাপারেও অভিযোগ আনে দরদাতা এক প্রতিষ্ঠান, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

তবে আদালতের রায় এনবিআরের পক্ষেই আসে এবং কন্টেনার স্ক্যানার সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে সকল জটিলতার অবসান হয়ে এখন এ ৬টি স্ক্যানার স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ১৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, নানা জটিলতা অতিক্রম করার পর চলতি বছরের গত ২৬ মে একই দরপত্র পুনরায় আহ্বান করা হয়। এবারের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় চীনা প্রতিষ্ঠান নাকটেক। একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটিকেই কাজ দেওয়া হয়েছে। যে ৬টি স্ক্যানার স্থাপিত হতে যাচ্ছে তার মধ্যে চারটিই বসবে চট্টগ্রাম বন্দরে। অপর দুটির মধ্যে একটি যশোরের বেনাপোল এবং অন্যটি ভোমরা স্থলবন্দরে স্থাপন করা হবে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এসব স্ক্যানার দিয়ে কন্টেনার খোলা ছাড়াই এক্স-রে বা গামারশ্মি ইমেজিং প্রক্রিয়ায় কন্টেনারের ভেতরের রঙিন ছবি তোলা যাবে। মেশিনগুলোতে স্ক্যানিং ছাড়াও ওজন পরিমাপ, রেডিওপোর্টাল মনিটর এবং ইমেজিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির স্ক্যানারগুলো ‘বোথ ওয়ে’ স্ক্যান ডিরেকশনে স্ক্যানিং করতে সক্ষম।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বছরে গড়ে ৩ মিলিয়ন কন্টেনার পণ্য হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে।

এত বিপুল পরিমাণ পণ্যের কায়িক পরীক্ষা সম্ভব নয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১২ থেকে ১ শতাংশ পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করে থাকে। স্ক্যানিংয়ে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়লে তখন শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। বন্দরের বারটি গেটে বর্তমানে সাতটি স্ক্যানার রয়েছে। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ঘোষণাবহির্ভূত বা নিষিদ্ধ পণ্য আসা যাওয়া প্রতিরোধ করতে ক্রমেই শুল্কায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন হচ্ছে।