জামালপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো সরিষা চাষ, হলুদে ছেয়ে গেছে মাঠ

জামালপুরে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। সেইসঙ্গে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন চাষিরা। কৃষকরা বলছেন, জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে ক্ষেত। হলুদে ছেয়ে গেছে মাঠ। হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষা। দেখে মনে হচ্ছে প্রকৃতির কন্যা হলুদ বরণ সেজেছে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) জেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে প্রায় সবগুলো ক্ষেত। মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের জন্য ফুলে ফুলে গুনগুন করছে। পাশাপাশি চলছে মৌয়ালদের মধু আহরণের কাজ।

জেলা সদরের কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরিষার আবাদ হয় দোআঁশ ও বেলে মাটিতে। বিশেষ করে নদী এলাকার চরগুলোতে আবাদ ভালো হয়। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের গাইবান্ধা গ্রামের সরিষা চাষি সুলতান মিয়া, বারেক মিয়া, ইসমাইল সেখ জানান, গত বছর প্রতি মণ সরিষা ১৮০০-১৯০০ টাকায় বিক্রি করেছেন তারা। সরিষার চাষ পদ্ধতি খুব সহজ। কম খরচে অল্প সময়ে লাভ বেশি হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দু-একটি চাষ কিংবা বিনা চাষে জমিতে ছিটিয়ে দিলেই ফলন পাওয়া যায়।

একই কথা বলেছেন মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জব্বার, সুরুজ মিয়া, শফিউল আলম। তারা জানিয়েছেন, দেশি সরিষার জাতগুলোর চেয়ে উন্নত জাতগুলোতে ফলন বেশি হয়। গত বছরের চেয়ে এবার আবাদ বেশি হয়েছে। এ বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা তাদের।

সুরুজ মিয়া বলেন, ‘আমি ছয় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে। এতে লাভও বেশি হবে।’

সরিষাবাড়ি উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের কৃষক আনিসুর রহমান, আবু তাহের ও আব্দুল ছামাদ জানিয়েছেন, সরিষার আবাদে সেচ ও সার কম লাগে। এছাড়া সরিষার পাতা উৎকৃষ্ট জৈব সার। প্রতি বিঘায় চার-পাঁচ মণ সরিষা পাওয়া যায়। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সরিষা আবাদ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ২৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছর ২৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিদের লাভ বেশি হবে। ইতোমধ্যে চাষকৃত সরিষার বেশিরভাগে ফুল এসে গেছে।

তবে ঘন কুয়াশা পড়লে এবং কুয়াশা বেশিদিন স্থায়ী হলে সরিষার ফলনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা আছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, যদি শীতের স্থায়িত্ব কমে আসে তাহলে সরিষা আবাদে কোনও প্রভাব পড়বে না। সরিষা রোপণের ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। সরিষা উঠিয়ে আবার বোরো আবাদ চাষ করা যায়। ফলে সরিষাকে লাভের ফসল হিসেবে অভিহিত করেন কৃষকরা।

এবার জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ‘রবিশস্য হিসেবে সরিষা আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সরিষা বীজ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। এরই মধ্যে চাষকৃত সরিষার বেশিরভাগে ফুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সেইসঙ্গে অধিক মুনাফা পাবেন চাষিরা।’