সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সফল তারা

ডেলিভারিম্যানের কাজ করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছে রাজবাড়ীর শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান। সে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে কলেজে ভর্তি এখনো অনিশ্চিত। তার বাবা সাত্তার শেখ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের অধিবাসী।

এক সময় তিনি গাড়ি চালালেও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে আর কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। তার মা সালমা আক্তার পাটকলে কাজ করেন।সোহানুর বলে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় টিউশনি শুরু করি। এরপর ফুডপান্ডায় যুক্ত হই। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ টাকার মতো আয় হতো। এখন টিউশনিও শুরু করেছি। বই কেনা হয়নি। ভর্তির টাকাও জোগাড় করা হয়নি।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘সোহানুর রহমান একজন সংগ্রামী ছেলে। আর্থিক অনটন তাকে দমাতে পারেনি। ’ তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারলে সে ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। ’

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রজিহার ইউনিয়নে রাংতা গ্রামের দরিদ্র কৃষক রাজ্জাক গোমস্তার ছেলে আমিরুল গোমস্তা। অন্যের পানের বরজে শ্রম দেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে মেধাবী আমিরুল। সে রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেলেও বর্তমানে অর্থের অভাবে তার ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আমিরুল জানায়, অন্যের পানের বরজে কাজ করে দৈনিক ছয় থেকে আট ঘণ্টা লেখাপড়া করত সে। ইচ্ছা আছে একজন প্রকৌশলী হওয়ার। যদিও বর্তমানে টাকার অভাবে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থী মো. শাহাদাত হোসেন শত সমস্যার মধ্যেও চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা। মা নেই, বাবাও স্বল্প আয়ের মানুষ। অফিস সহকারী পদে চাকরি করেন ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে। শাহাদাতের ছোট ভাই মো. আরাফাত হোসেনের বয়স পাঁচ বছর। ২০১৭ সালে তার মা শিরিন সুলতানা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

অভাবের সংসারে শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আল জুলফিকার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৬১ পেয়েছে মা-হারা শাহাদাত। সে কম্পিউটার বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে হতে চায় প্রকৌশলী। এজন্য প্রয়োজন সবার সহযোগিতা।

শাহাদাত বলে, ‘আমার মা আর বাবা খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু তাঁরা সব সময় চেয়েছেন, আমরা যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করে আদর্শ মানুষ হতে পারি। ’

শাহাদাতের বাবা মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘সব সময় চাই আমার ছেলেরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়। এ জন্য সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই। ’