আসছে ১০ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

৮ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ১০টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৭টি কেন্দ্রের সম্ভব্যতা যাচাই শেষ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ, বাকি ৩টি কেন্দ্রের যাছাই-বাছাই চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত পাওয়ার সেলের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১-২২ অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন বিদু্যৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে বাংলাদেশ বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও বিদেশি পাওয়ার কোম্পানির যৌথ উদ্যোগেও নির্মিত হবে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র। এদিকে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা কতটা সময় উপযোগী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ গ্যাস সংকটে দেশের প্রায় অর্ধেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশের গ্যাস বিদু্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৪৭৬ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাস সংকটে উৎপাদন করা যাচ্ছে মাত্র ৪ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে নেওয়া হয়েছে আরও ৮ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত। বিপিডিবি’র তথ্যানুযায়ী ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে যাবে। তবে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ঘাটে নির্মিত ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ প্রায় শেষদিকে। কিন্তু গ্যাসের সংস্থান না থাকায় উৎপাদনের ঘোষণা দিতে পারছে না কেন্দ্রটি। এদিকে এই পরিকল্পনার আওতাধীন রয়েছে হরিপুরে কম্বাইন সাইকেল পাওয়ার পস্ন্যান্ট প্রযুক্তির ২৫০ মেগাওয়াট, নরসিংদীর ঘোড়াসালে ২২৪ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়ায় ৫৪০ মেগাওয়াট, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ কেন্দ্র। এছাড়াও বিপিডিবি ও মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেকট্রনিকের যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মুন্সিগঞ্জে রুলার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ৫৫০ মেগাওয়াট ও নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জোনের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ২টি কেন্দ্র এবং ময়মনসিংহ বি আর পাওয়ার জোনের ৪০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। অন্যদিকে কোল পাওয়ার ও জাপানের কোম্পানি মিতসুই-এর যৌথ প্রকল্পে রয়েছে আরও ৫৮৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস বিদু্যৎ কেন্দ্র। তবে এর জায়গা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুলস্নাহর মতে, যেখানে গ্যাসের মজুত না থাকায় বর্তমান সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে সেখানে আরও ১০টি কেন্দ্র নির্মাণে পরিকল্পনা প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘এক কথায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ দেখতে ও শুনতে আকর্ষণীয় লাগে, ঝামেলাও কম। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এত জ্বালানি বা গ্যাস কোথা থেকে আসবে। যেখানে গ্যাসের অভাবে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না’। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের গ্যাসের মজুত ও সমুদ্রসীমায় গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ না করে আরও ৮ হাজার মেগাওয়াট গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত কতখানি সুফল আনবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মত তাদের। যদিও সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন সারাদেশে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর ছাদে সোলার পস্নান্ট বসানো হবে। এছাড়াও বায়ু বিদ্যুৎ খাতে পর্তুগালসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে বিনিয়োগ আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।