নীড় বিশেষ অর্জন ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা

ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা

মার্কিন অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় আবারও স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফোর্বসের ওই তালিকায় এবার তিনি আছেন ৪২তম স্থানে। বিশ্বজুড়ে রাজনীতি, মানবসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণমাধ্যম খাতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসা প্রভাবশালী নারীদের মধ্য থেকে ১০০ জনকে বেছে নিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করে ফোর্বস।

গত বছর বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ৪৩তম স্থানে ছিলেন শেখ হাসিনা। এ বছর তাঁর একধাপ উন্নতি ঘটেছে। ২০২০ সালে তালিকার ৩৯তম স্থানে ছিলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার প্রভাবশালী নারীদের এই তালিকা প্রকাশ করে ফোর্বস। শেখ হাসিনা সম্পর্কে ফোর্বস লিখেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হয়েছেন তিনি; টানা তৃতীয়বার। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয় পায় তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

ফোর্বস বলছে, এবারের মেয়াদই নিজের জন্য ‘শেষ মেয়াদ’ হিসেবে মনে করেন শেখ হাসিনা। এই মেয়াদে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

মার্কিন এই সাময়িকী লিখেছে, ‌‘শেখ হাসিনার চলমান লড়াই বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। নির্বাচনে ভোটারদের দমনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা ও তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে ফোর্বস। এবারের ১৯তম সংস্করণে মার্কিন এই সাময়িকী বিশ্বের ৩৯ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ১০ জন রাষ্ট্রপ্রধান, ১১ জন বিলিওনেয়ারকে বেছে নিয়েছে।

ফোর্বসের এ বছরের বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী নারী নির্বাচিত হয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর এক সপ্তাহ পর মস্কোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের তিনটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন তিনি।

রাশিয়ার লাগাম টানতে ইউরোপীয় কমিশনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে মস্কোর লেনদেন বাতিল, রাশিয়ার বিমানের জন্য ইউরোপের আকাশসীমা বন্ধ এবং ইউরোপে ক্রেমলিনের মালিকানাধীন গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ায় তাকে এই বছরের বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী নারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

এরপরই ফোর্বসের দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর নারী নির্বাচিত হয়েছেন ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিন লাগার্দে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন গত বছরের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ-এশীয় নারী হিসেবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস।

ফোর্বস বলছে, অনেক প্রথমের জন্ম দেওয়া কমলা হ্যারিস ২০১৬ সালে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। তারও আগে ২০১০ সালে প্রথম আফ্রো-আমেরিকান এবং প্রথম নারী হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

গাড়ি নির্মাতা মার্কিন কোম্পানি জিএম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ম্যারি ব্যারা আছেন চতুর্থ স্থানে। আর গত বছরের মে মাসে স্বামী বিল গেটসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিশ্বের অন্যতম ধনী নারীতে পরিণত হওয়া মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থানে আছেন। ২০২১ সালের এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিলেন তিনি।

মানবাধিকার ও নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছেন মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। বিচ্ছেদ হলেও দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেলিন্ডা গেটসের সম্পদের পরিমাণ ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত সেপ্টেম্বরে হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাণ হারানো ২১ বছর বয়সী তরুণী জিনা মাহসা আমিনিকেও বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় রেখেছে ফোর্বস।

তালিকায় ই–কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী, সমাজসেবক ও লেখক ম্যাকেঞ্জি স্কট ১১তম স্থানে রয়েছেন। ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর ২০১৯ সালে আমাজনের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন ম্যাকেঞ্জি। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন আছেন ৩৬তম স্থানে। গত বছর এই তালিকায় ৩৭তম স্থানে ছিলেন ২০১৯ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সীতা। তিনিই ভারতের প্রথম পূর্ণ নারী অর্থমন্ত্রী। নির্মলা ছাড়াও ভারতের আরও পাঁচ নারী ২০২২ সালের ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাণ হারানো ২১ বছর বয়সী তরুণী জিনা মাহসা আমিনিকেও বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় রেখেছে ফোর্বস। ইরানি এই তরুণী ১০০তম প্রভাবশালী নারী (মরণোত্তর) নির্বাচিত হয়েছেন।