যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড

একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের প্রথম ১০ মাসে ৮৪৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। বছর শেষে রপ্তানির পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধিভুক্ত অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটিইএক্সএ) তথ্য বলছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ ও আয় দুটোই বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে রপ্তানি আয় ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪৬ কোটি ডলার হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫৬৯ কোটি ডলার। ২০২১ সালে মোট রপ্তানির পরিমাণ ৭১৪ কোটি ডলারকেও ছাড়িয়ে গেছে আট মাসে।

ওটিইএক্সএর পরিসখ্যান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ১০ মাসে বাংলাদেশ থেকে ২৭৬ কোটি বর্গমিটার পোশাক আমদানি করেছে, যা ২০২১ সালের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। গেল বছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২১০ কোটি বর্গমিটারের পোশাক। সারা বিশ্ব থেকে ২০২২ সালের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকে দেশের তৈরি পোশাকের কাঁচামাল, বিশেষ করে নিটওয়্যার পোশাকের কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বেড়েছে তৈরি পোশাকের দামও। এ ছাড়া দেশের শিল্প খাতের স্থিতিশীল অবস্থা ক্রেতাদের আস্থা বাড়িয়েছে। এসব কারণেই অক্টোবরে রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশি পোশাকের প্রধান প্রধান বাজারগুলোয় চাহিদা কমেছিল।

যদিও তারা বলেছেন, মৌসুমের চাহিদা মেটাতে বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা আবার অক্টোবরে পোশাকের অর্ডার দেওয়া শুরু করেছেন। জানতে চাইলে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, ‘অ্যাপারেল ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। ক্রেতারা আমাদের ফ্যাক্টরি ভিজিট করেছেন। আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক ও সমঝোতা চুক্তি সই করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পোশাকের ইউনিট প্রাইসও বেড়েছে। এ ছাড়া বেশি দামের পোশাকও রপ্তানি শুরু করেছি। আমরা বিভিন্ন ধরনের দামি পোশাক রপ্তানি করছি। আগে শুধু ট্রাউজার ও টি-শার্ট রপ্তানি হতো যুক্তরাষ্ট্রে। এখন স্যুট, স্পোর্টস আইটেড রপ্তানি হচ্ছে। সবকিছু মিলেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে রপ্তানির পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করি।’

বিজিএমইএ-সূত্র জানান, জুলাই ও আগস্টে কিছু ক্রেতা তাদের অর্ডার হোল্ড করেছিলেন, অক্টোবরে নেওয়া শুরু করেছেন। চীন থেকে বাতিল হওয়া কিছু অর্ডারও বাংলাদেশ পেয়েছে। কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাক উদ্যোক্তারা সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার কারণে ক্রেতারা আমাদের দেশ থেকে পোশাক কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। সর্বোপরি শিল্পের কর্মক্ষেত্র এবং অন্যান্য নিরাপত্তামূলক কাজের উন্নতিতে বিশাল বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা।

ওটিইএক্সএর তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ২৯ দশমিক ০১ শতাংশ কমে ১৬০ কোটি ডলার হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২২৬ কোটি ডলার। ২০২২ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৩২ কোটি ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৩২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬০৪ কোটি ডলার এবং ভারত থেকে ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৫০০ কোটি ডলার হয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়া থেকে ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ৪৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি।