কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের মজুদ ৫০ বছরে সর্বোচ্চ

বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিপুল পরিমাণ সোনা মজুদ করার পর চতুর্থ প্রান্তিকেও ক্রয় অব্যাহতভাবে বাড়াচ্ছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডাব্লিউজিসি) তথ্য অনুযায়ী গত অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনার মজুদ আরো ৩১ টন বেড়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মালিকানায় যে পরিমাণ সোনা রয়েছে তা ১৯৭৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি সোনা ক্রয় করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাদের মজুদ বেড়েছে ৯ টনের বেশি। এ দেশটি এ বছর সোনার মজুদ বাড়িয়েছে ১৮ টন। গত অক্টোবরে তুরস্কেরও সোনা ক্রয় বেড়েছে প্রায় ৯ টন। ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি সোনা ক্রয় করেছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব টার্কিয়ে। তাদের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে ১০৩ টন।

উজবেকিস্তানও গত অক্টোবরে ৯ টন সোনা ক্রয় করেছে, দেশটি অব্যাহতভাবে মজুদ বাড়িয়ে চলেছে। দেশটির মোট রিজার্ভের ৬০ শতাংশের বেশি সোনা। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ ভারতও সোনা ক্রয় অব্যাহতভাবে বাড়াচ্ছে। দেশটির রিজার্ভে বর্তমানে ৭৮১ টন সোনা রয়েছে। দেশটি বিশ্বের নবম সোনার মজুদকারী দেশ।

ডাব্লিউজিসি জানায়, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বে সোনার চাহিদা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৮১ টন, যা গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি। এমনকি চলতি বছরের ৯ মাস পর্যন্ত এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় সোনার চাহিদা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। মূলত ব্যবহারকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রধান ভূমিকা রেখেছে। সংস্থার হিসাবে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বেড়েছে প্রায় ৪০০ টন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০০ শতাংশ বেশি। চতুর্থ প্রান্তিকেও ক্রয় অব্যাহত রয়েছে।

ডাব্লিউজিসির গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান জন কার্লোস আর্টিগাস বলেন, ‘বিশ্বে সোনার ব্যবহার করোনা-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরেছে। এর কারণ খুচরা পর্যায়ে অলংকার বিক্রি বেড়েছে। এর পাশাপাশি সোনার বার ও কয়েনের চাহিদাও বেড়েছে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত ক্রয়ের কারণে। ’

এদিকে দীর্ঘ কয়েক মাস কমার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সোনার দাম। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি আউন্স এক হাজার ৭৯৭ ডলার, যা গত এক মাসে বেড়েছে ২.৪১ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আগ্রাসী সুদের হার বৃদ্ধিতে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনার দাম কমেছিল। কিন্তু সামনে নীতিসুদ হার উচ্চহারে বাড়বে না এমন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সোনায় বিনিয়োগ বাড়ছে, এতে দামও ঊর্ধ্বমুখী।