নীড় উন্নয়ন গবাদিপশুর জেনেটিক গঠন উন্নয়নে চলছে গবেষণা

গবাদিপশুর জেনেটিক গঠন উন্নয়নে চলছে গবেষণা

দুধের শহর গাভীর শহর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর। যে দিকেই তাকানো যাবে, সে দিকেই গবাদিপশু। শাহজাদপুরের রেশমবাড়ি কৃষক পরিবারের সন্তান হিরুজ্জল ফকির। বাপ-দাদার আমল থেকে গবাদিপশু পালন করে আসছেন। আগে দেশী লাল গাভী দিয়ে খামার করেন। বাবার মৃত্যুর পর নিজেই খামারের হাল ধরেন। ২০০১ সালে তার ১০টি গাভী ছিল।

বর্তমানে তার খামারে। অস্ট্রেলিয়ান হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান ও জার্সি জাতের ৩০টি গাভী আছে। কয়েকদিন আগে ১০টি গাভী বিক্রি করেছেন। এখন ২০টি গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ লিটার দুধ উৎপন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, রেশমবাড়িসহ আশপাশের এলাকায় যে সমস্ত বাথান আছে সেখানে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের বাছুর হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ হলে আমাদের এই খামারগুলো আরও বেশি উন্নত হতো।

এটা শুধু হিরুজ্জল ফকিরের কথা নয়, সমস্ত খামারির কথা। তাদের কথা গবাদিপশুর জেনেটিক গঠন উন্নয়নে বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাতে আরও উন্নত জাতের গাভী পাওয়া যাবে। এটা হলেই এ সমস্ত খামারিদের কর্মসংস্থান হবে। উৎপাদন বৃদ্ধি হবে, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আরও বাড়বে। বেকারত্ব অনেকাংশে কমে যাবে।
দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার অধিক উৎপাদনশীল ও উন্নত জাতের গবাদিপশু পালনে খামারিদের উৎসাহিত করছে। উন্নত জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের গবাদিপশু দেশে আনা হয়েছে।

এ ছাড়াও জেনেটিক গঠন উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদিপশু সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে এ ধরনের বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে, বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

এ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ জেনেটিক গঠন উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে উন্নত জাতের গবাদিপশু পালন ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তেমনি দেশে মাংস ও দুধের উৎপাদন এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে মাংস ও দুধ এবং এগুলো থেকে তৈরিকৃত নানা ধরনের পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি অবদান রেখেছে ৪৫ হাজার ২২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে দেশে শ্বেত বিপ্লব ঘটবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশে শ্বেত বিপ্লব ঘটবে। তারই লক্ষ্যে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা আরও বৃদ্ধি করতে গবাদিপশুর উন্নত ও উৎপাদনশীল জাত তৈরির জন্য বিষয়টি ক্রমান্বয়ে সামনে এসেছে। আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশি উৎপাদনশীল গাভীর জন্যও এখন জেনেটিক গঠন উন্নয়নে কাজ চলছে। যাতে করে আরও উন্নত জাতের গাভী পাওয়া যায়।

বাছুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ॥ রেশমবাড়ি, পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা, বড়ভিটা, ওছাটভিটা, বুড়িরভিটা, কুটিরভিটাতে এবং কাউয়াক এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে খামারে গাভী আছে। তবে বৃহৎ বিনিয়োগ হলে এ এলাকায় কৃত্রিম প্রজননে আরও প্রসার ঘটবে। দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছে গাভীর কৃত্রিম প্রজনন। পূর্বে সনাতন পদ্ধতিতে প্রজনন করানোয় গর্ভধারণ কম হতো তাই বাছুর উৎপাদন কম হতো বর্তমানে কৃত্রিম প্রজননের সুবিধা গ্রহণ করায় বাছুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রাণী সম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প দেশের চিত্রই পাল্টে দিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বেড়েছে। বেকারত্ব অনেকাংশে দূর হয়েছে। সমান্তরাল ভাবে দুধ ও মাংসের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। উৎপাদন আরো বেশী বৃদ্ধি করতে হলে গবাদিপশুর জেনেটিক গঠন উন্নয়নে বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন। জেনেটিক ম্যারিট উন্নয়নে প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান আরও বেশি সৃষ্টি হবে ।

২০২১ -২২ অর্থবছরে সিমেন উৎপন্ন হয়েছে ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ডোজ। কৃত্রিম প্রজনন গাভীর সংখ্যা ৪২ লাখ ৩৪ হাজার আর সংকর জাতের বাছুর উৎপাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৬১ হাজার। আর একই সময়ে দুধ উৎপাদন হচ্ছে ১৩ দশমিক শুন্য ৭ মিলিয়ন টন। মাংস ৯ দশমিক ২৬ মিলিয়ন টন দুধ ২৩ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন টন।
গরুর জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে ॥ জেনেটিক্যালি বেশি দুধ দেয় এমন গরুর জাত উদ্ভাবনে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করছে। তবে এই খাতে স্থানীয় খামারগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার। এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে বিদেশী দুগ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশীয় খামারিরা আরও সমৃদ্ধ হবেন। পাশাপাশি ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসে নিয়মিত দুধ পানে সচেতন করতে হবে।

তাতে মানুষের পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি খামারিদের বাজারও সম্প্রসারণ হবে। কৃত্রিম প্রজননের ফলে দেশের প্রতিটি জেলায় নতুন নতুন খামার গড়ে উঠেছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উন্নতমানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে, উন্নত জাতের গরু বা বাছুর পাওয়া যাচ্ছে। এতে গরু পালনে খামারিদের আগ্রহ বেড়েছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার গাভী প্রজনন করানো যায়।
বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন ॥ জাত উন্নয়নে বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার অধিক উৎপাদনশীল ও উন্নত জাতের গবাদিপশু পালনে খামারিদের উৎসাহিত করছে। উন্নত জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের গবাদিপশু দেশে আনা হয়েছে ।

এছাড়াও জেনেটিক গঠন উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদিপশু সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে এ ধরনের বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে, বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করছে। এ খাতে বড় ধরনের বিনিযোগ জেনেটিক গঠন উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে উন্নত জাতের গবাদিপশু পালন ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

এতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তেমনি দেশে মাংস ও দুধের উৎপাদন এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে আমরা নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে মাংস ও দুধ এবং এগুলো থেকে তৈরিকৃত নানা ধরনের পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবো। গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন এর মধ্যে অন্যতম। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অধিক উৎপাদনশীল ও উন্নত জাতের গবাদিপশু পালনে সরকার খামারিদের উৎসাহিত করছে। বিনামূল্যে উন্নত জাতের সিমেন সরবরাহ করা হচ্ছে খামারিদের।

দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মহিষের জাত উন্নয়নে সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সারাদেশে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত এক দশকে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, জাত উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কারণে দেশে দুধের উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে জনপ্রতি দুধের প্রাপ্যতা।

শাহজাদপুর মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান হাসিব খান তরুন বলেন, বর্তমানে গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। খামারিদের জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। গবাদিপশুর জেনেটিক গঠন উন্নয়নে প্রয়োজন বিনিয়োগ। তা হলে খামারিরা উপকৃত হবে। উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এতে করে আমিষ উৎপাদন আরও বাড়বে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বেকারত্ব ঘুচবে।

কৃত্রিম প্রজনন দুধের বিপ্লব ॥ কৃত্রিম প্রজননের ফলে শাহজাদপুরে দুধের বিপ্লব ঘটেছে। মিল্ক ভিটার প্রজনন শাখার ম্যানেজার (সিডিপি) ডা. বাবুল আক্তার বলেছেন, কৃত্রিম প্রজননের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাত উন্নয়ন। ১৯৯৬ সালের পর বাঘাবাড়িতে কৃত্রিম প্রজননের কারণে দুধের শাহাজাদপুরসহ আশপাশে দুধের বিপ্লব ঘটেছে। এখন একটি গরু ১৫ থেকে ৩০ লিটার দুধ দিচ্ছে।

আমরা অস্ট্রেলিয়া থেকে শতভাগ হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান ও জার্সি জাতের। সীমেন বিমানে আনি। হিমায়িত সিমেন এনে সারা বাংলাদেশে দিচ্ছি। বাঘাবাড়ী দুধ এলাকাতেও দিচ্ছি। আমাদের এখানে কৃত্রিম প্রজনন সেন্টার আছে। ১৬ বছর সময় লাগে একটি জেনারেশন মেকআপ করতে। এখানে দুধ বৃদ্ধির কারণে আমাদের এখন ৩ /৪ লিটার দুধের গুরু পালা লাগছে না। সংখ্যা কম হলেও প্রোডাকশন বেড়েছে।

১০ লিটার দুধের জন্য তিনটি গরু পালন না করে ১৫ লিটার দুধের একটি গাভী পালন করলেই চলে। এটাই হলো জাত উন্নয়নের বেনিভিট। বা জেনেটিক ন্যাচার। জাত উন্নয়নের ফলে দুধের চাহিদা মিটছে। নিঃসন্দেহে বিনিয়োগ প্রয়োজন। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ হলো আরও দুধের উৎপাদন বেড়ে যাবে। ফল আসবে প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি। পাশাপাশি কর্মসংস্থার ও পুষ্টি বাড়বে।

খাদ্য নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য, মেধাবী জাতি গঠনে ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় উন্নত ও মানসম্পন্ন পাণিসম্পদের ভূমিকা অসামান্য। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে তাই সরকার বিভিন্ন কার্য়কর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে পাঁচ বছর মেয়াদী (২০১৯-২০২৩) প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)। এ উন্নয়নে যৌথভাবে সহায়তা করছে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ প্রকল্পটি দেশের ৬১ জেলার ৪৬৫ উপজেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ও উপজেলা ব্যতীত) বাস্তবায়ন করছে।

দেশে গবাদিজাত উন্নয়ন ও দুধ মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী চন্তা ও নির্দেশে ১৯৭৩ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে অনুদান হিসেবে হলস্টিন ফ্রিজিয়ান এবং জার্সি জাতের ১২৫টি গাভী ও ষাঁড় আনা হয়। এই জাতের ষাঁড়ের সঙ্গে দেশী গাভীর মিলনে উৎপাদিত সংকর জাতের গবাদিপশুর উৎপাদন করা হয়। পরবর্তীতে কৃত্রিম প্রজনন সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছে এই প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার থেতে সিমেন উৎপাদনের একটি চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা গেছে, ১৯৭৫ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮ ডোজ সিমেন উৎপন্ন হয়েছে।

দুধের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার ব্যবস্থা জোরদারকরণ, দুগ্ধজাত পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তোলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশকে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

দেশের ডেইরি শিল্পের উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মার্কেট লিঙ্কেজ, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যের ভোক্তা সৃষ্টির কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অধিক দুধ উৎপাদনশীল মহিষের কৃত্রিম প্রজনন সম্প্রসারণ কার্যক্রম দেশব্যাপী চলমান রয়েছে।

মূল সিমেন সরবরাহ হয় সাভারের কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার থেকে ॥ মূল সিমেন সরবরাহ হয় সাভারের কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার থেকে। এরপর যে ২১টি জেলায় কেন্দ্র আছে সেখানকার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট আছে। আগামীতে ৬০ জেলায় সিমেন সরবরাহের কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ১৯৭৬ সালে নেয়া এই কার্যক্রম দেশে গরুর চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অবদান রাখছে গবাদিপশু পালনেও।

শুরুর বছরে কৃত্রিম প্রজননে ২৬ হাজার বাচ্চা উৎপাদন হলেও চার দশকেরও বেশি সময় পরে এসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখে। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার করে সুস্থ গাভীর মাধ্যমে প্রজনন করে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। দেশের গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার’ জাতীয় গো-প্রজন কেন্দ্র হিসেবে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাভারে ৭৯২ দশমিক ৮৭ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে এ খামার।

সাভার অ্যানিম্যাল ব্রিডিং মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. গোলাম আযম বলেন, আমরা মূলত জেনেটিক সেন্সেই করছি। একটি লোকাল বিডের সাথে উন্নত ম্যারিট সম্পন্ন যে মেরিডগুলো আছে তার সাথে ক্রস করেই জাতি তৈরি করছি। ফলে কোয়ালিটি বেড়েছে। দুধের উৎপাদন কাক্সিক্ষত পর্যায়ে যাচ্ছে।

এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে দেশে শ্বেত বিপ্লব ঘটবে। পাশাপাশি গত অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসমূহের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে আর্থিক অবদান রেখেছে ৪৫ হাজার ২২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগামীতে আর্থিক অবদান আরও বেড়ে যাবে। জেনেটিক মেকআপ চেঞ্জের কারণেই এগুলো সম্ভব হয়েছে।