কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এটি দেওয়া হবে। এ তহবিল থেকে কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে নূন্যতম তিন মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৮ মাস। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বে খাদ্য সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কৃষি খাতে স্বল্প সুদহারে ঋণ প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম (তহবিল) গঠন করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এই তহবিলের মেয়াদ হবে ২০২৪ সালের ৩০ জনু পর্যন্ত। প্রয়োজনে এ স্কিমের মেয়াদ বাড়ানো হবে। ধান চাষ, মৎস্য চাষ, কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচি, শাক-সবজি, ফল ও ফুল চাষ, প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় পোল্ট্রি ও দুগ্ধ উৎপাদন খাতে এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণ করা যাবে।

কৃষক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ
এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহকে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষকপর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকদের ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে বিতরণ করবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গা চাষিদের অনুকূলে শস্য ও ফসল (ধান-সবজি, ফল ও ফুল) চাষের জন্য এককভাবে জামমানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

সুদহার
এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংক হতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদহারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। কৃষকপর্যায়ের সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ (সরল হারে)। এ মুনাফার হার সব গ্রাহকের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ হতে অনধিক ১৮ মাসের মধ্যে আসল এবং সুদ পরিশোধ করবে।