মার্কিন নেতৃত্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রিডে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৭) এলডিসিভুক্ত অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কোনো সুখবর আসেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাস ও বিবেচনার বুলিই এসেছে। এতে সন্তুষ্ট নয় উন্নয়নশীল দেশগুলো।

এদিকে, সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী ১০০ বিলিয়ন অর্থ পরিশোধ করার কথা থাকলেও সেই বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে ‘লস এন্ড ড্যামেজ’’ নাম আবার আরেকটি ভিন্ন তহবিল গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে উন্নত দেশগুলো।

যদিও সম্মেলনে সুখবর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া মিথেন গ্যাস কমানোর বৈশ্বিক উদ্যোগেও শামিল হয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাভিলিয়নে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির সঙ্গে বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের লস অ্যান্ড ডেমেজ এজেন্ডায় তোলায় আমি তাকে (জন কেরি) ধন্যবাদ দিয়েছি। তিনি চেয়েছিলেন, আমরা যেন বৈশ্বিক মিথেন অঙ্গীকারে যুক্ত হই। আমরা রাজি হয়েছি, মিথেনের পরিমাণ কমাতে হবে। কিন্তু এর কারণে ক্ষতি হবে আমাদের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সাহায্য দরকার। এ ক্ষেতে বাংলাদেশের কী ধরনের সহায়তা দরকার তা জানতে চেয়েছেন জন কেরি।

মিথেন অঙ্গীকারের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৪৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মোমেন বলেন, এ ক্ষেত্রে আমি সমাধান পেয়েছি। তিনি আমাদের কৃষি জোটে যুক্ত হওয়ার জন্য বলেছেন। আমরা যুক্ত হয়েছি। তারা আমাদের দেশে পাওয়ার গ্রিডে সহযোগিতা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রকল্পের কথা জানান। সেটা হলো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় উঁচু বাধ করা। তিনি বলেন, এর আগে জন কেরিকে একটা প্রকল্পের কথা বলেছিলাম, দুর্যোগপ্রবণ ৪৩২ কিলোমিটার এলাকায় বাধ উঁচু ও চওড়া করা। যুক্তরাষ্ট্র একটি কারিগরি দল পাঠিয়েছিল। তারা এখন এটা যাচাই করছে।

বিশ্বের ৮০ শতাংশ কার্বন উন্নত ২০টি দেশ নিঃসরণ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে যত কার্বন নির্গমন হয়, তার মধ্যে ৩৫ শতাংশ করে কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া অন্যতম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে রাখতে প্রকল্প নিয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশও যুক্ত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।