দাম ও মানে এগিয়ে বাংলাদেশের ডেনিম

খরচ ও মানে বিশ্ববাজারে এগিয়ে আছে বাংলাদেশের ডেনিম পোশাক। এর উৎপাদন ও উদ্ভাবন তুলে ধরতে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা। এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি ৭০টি প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরা।

মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ডেনিম এক্সপোর আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহব্যাপী মেড ইন বাংলাদেশ উইকে দেশে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন উপলক্ষে ১৬০ দেশের ৫৫০ ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধি এখন ঢাকায় রয়েছেন। এ উপলক্ষে তৈরি পোশাকের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিভিন্ন দেশ ও জোটের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গতকাল ছিল এই আয়োজনের চতুর্থ দিন। এদিন ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে উদ্বোধন করা হয় বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা পোশাক খাতের সক্ষমতা দেখাচ্ছেন। নতুন ও চোখ-ধাঁধানো ডিজাইন, নতুন ধরনের পোশক প্রদর্শনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আসা বিদেশি ক্রেতাদের সামনে পোশাকশিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন। সেই সঙ্গে একাধিক সেমিনারে এ শিল্পের সামনে সম্ভাবনা, সংকট এবং সংকট দূর করার বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন।

ডেনিম এক ধরনের ওভেন ফ্যাব্রিক, যা থেকে শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেটসহ নানা পোশাক হয়। একজন উদ্যোক্তা জানান, তিন বছর ধরে তাঁরা এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছেন। মোটামোটি সাড়া পেয়েছেন, আশা এবারও পাবেন। জিডিএসের কর্মকর্তা রাজেস খের বলেন, ‘আমাদের পণ্য বিশ্ববাজারে ভালো করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবন ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। আশা করছি, উত্তরোত্তর আরো ভালো করব। ’ জার্মানিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী জানান, খরচ কিংবা মান—সব বিবেচনায় বিশ্ববাজারে এগিয়ে আছে বাংলাদেশের ডেনিম। এ ছাড়া এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক বা প্ল্যাটফরম তৈরি হবে বলে আশা মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর।

ডেনিম এক্সপোতে পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রযুক্তি তুলে ধরছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তা ইসরাত রহিম জানান, স্থায়িত্ব, নিত্যনতুন ডিজাইন ও বৈচিত্র্যের কারণে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ডেনিম পণ্য ব্যাপক সমাদৃত। হাল ফ্যাশনের অন্যতম উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ডেনিমে এখন শুধু ট্রাউজার তৈরি হয় না। শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, জ্যাকেট, পাঞ্জাবিও তৈরি হচ্ছে। ফলে চাহিদার পাশাপাশি বেড়ে গেছে উৎপাদনও। বিশ্বে প্রায় ছয় হাজার কোটি ডলারের বাজার ডেনিমের।

তিনি বলেন, ‘এই বিশাল বাজারের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন ক্রেতা ধরার চেষ্টা চলছে। এ জন্য প্রযুক্তি ও হাল ফ্যাশনের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সুতা থেকে কাপড় তৈরি—সব পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পোশাক তৈরির চেষ্টা করি আমরা। ’

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। সবাই মৌলিক পোশাক নিয়ে কাজ করছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আউটার ওয়্যার জ্যাকেট এবং মূল্য সংযোজনী পণ্যে গুরুত্ব দিতে হবে। ’