রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১২ খাত নিয়ে গবেষণা

২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে বাংলাদেশ। তবে এই মর্যাদাপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্তসহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর সেসব সুবিধা আর মিলবে না। এ অবস্থায় বিশেষ করে রপ্তানি বাণিজ্যে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকতে হবে।

এমন বাস্তবতায় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রপ্তানি খাতে সক্ষমতা বাড়াতে সম্ভাবনাময় ১২টি খাত নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএফটিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে আমরা খাতভিত্তিক গবেষণার কাজ করছি। এসব খাতে কীভাবে রপ্তানি আয় বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে রোডম্যাপ তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ থাকবে এবং সেই সুপারিশ পর্যাক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’

জানা যায়, ‘রোডম্যাপ ফর ওভারকামিং দ্য চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিএফটিআই। এই প্রকল্পের আওতায় ১২টি খাত নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।

খাতগুলো হলো পোশাক, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মৎস্য ও পশুসম্পদ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক পণ্য, লেদার ও লেদার পণ্য, নন-লেদার ফুটওয়্যার আইটি, পর্যটন, সফটওয়্যার, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি।

এসব খাতে রপ্তানি কীভাবে আরও বাড়ানো যায় এবং বাধাগুলো কী, তা পর্যালোচনা করতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিএফটিআই সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার বৈঠক হয়েছে।

বিএফটিআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেক বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মাহফুজা আখতার। সভায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারের পক্ষে একা কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বেসরকারি খাতই অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

‘রপ্তানিমুখী উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিকায় পণ্য বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।’ সম্ভাবনাময় সব খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

মাহফুজা আখতার বলেন, ‘এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেবা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেবা খাত সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘বিশেষ করে পর্যটন, সফটওয়্যার, আইটি এবং নার্সিং-মিডওয়াইফারি খাত থেকে সেবা রপ্তানির মাধ্যমে বৈশ্বিক মুদ্রা অর্জনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। দরকার হলে এসব খাতকে বেশি সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও উইংয়ের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব রোকেয়া বেগম।