আগাম শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে ৩০০ বছরের পুরনো মহাস্থান হাট

আগাম চাষ করা শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে বগুড়ার মহাস্থান হাট। ভরা মৌসুম আসতে এখনও ঢের বাকি। তাই সবজির দামও কিছুটা চড়া। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গার পাইকাররা হাট থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই হাটে এখন প্রতিদিন কেনাবেচা হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকার সবজি।

৩০০ বছরের পুরনো এই হাটে বগুড়া জেলার কৃষকরা ছাড়াও গাইবান্ধা, জয়পুরহাটের কৃষকরা সরাসরি এসে তাদের উৎপাদিত পণ্য পাইকারদের কাছে বিক্রি করে চলে যান। এ ছাড়া স্থানীয় পাইকাররা অর্ডার নিয়ে রংপুর, ঠাকুরগাঁরসহ কয়েকটি জায়গা থেকে কৃষিপণ্য হাটে এনে বিক্রি করেন ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছে।

হাটে প্রতিদিন বেগুন, পটল, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, চিচিঙ্গা, মূলা, শসা, ঢেঁড়সসহ সব ধরনের সবজি বেচাকেনা হয়। শীতকালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার সবজি বিক্রি হলেও অন্য সময় দিনে বিক্রি হয় ২ কোটি টাকা। পাইকাররা সব ট্রাকে করে নিয়ে যায় তাদের নিজস্ব মোকামে।

সরেজমিন মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সকালে মহাস্থান হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে শীতকালীন সবজির মধ্যে মূলা এবং ফুলকপির পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া বাঁধাকপিও সারিবদ্ধভাবে হাটের মাঝে মাঝে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সাদা মূলা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সিম খুব কম। হাটে এ দিন ফুলকপি প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়, বাঁধাকপি ২০ থেকে ২২ টাকা প্রতি পিস, মূলা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ, বেগুন ৬০০ টাকা মণ, সিম ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ২২ টাকা কেজি, কালাই ২৪ থেকে ২৫ টাকা কেজি, করলা ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা মণ। ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সবজিতে প্রতিমণ ১২ টাকা করে হাটের খাজনা পরিশোধ করে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কাঁচা মরিচের ক্ষেত্রে বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়কেই গুণতে হয় মণপ্রতি ২০ টাকা করে খাজনা।

হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষক হামিদুল জানান, তিনি ৩৩ শতক জমিতে সবুজ লাউ লাগিয়েছিলেন। ৯০ পিস লাউ তিনি হাটে নিয়ে এসেছেন। ভ্যানে করে নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতি পিস লাউ তিনি ২৫ টাকা করে বিক্রি করে দিয়েছেন।

পাইকার ব্যবসায়ী জাফর জানান, তিনি লাউসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি কিনেছেন। যেগুলো তিনি মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গল মোকামে পাঠাবেন ট্রাকযোগে। তিনি বলেন, লাউ ২৮ থেকে ৩০ টাকায় কিনলেও তিনি বিক্রি করে দেবেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। কারণ বগুড়া থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের খরচ করতে হয়। তবে কাঁচামালের গাড়িতে চাঁদাবাজি বা হয়রানি হয় না বলে জানান তিনি।

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক ওয়াদুদ প্রামানিক বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন। সেখান থেকে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪০ মণ কপি পেয়েছেন। ইতোপূর্বে ২৪০০ থেকে ২৬০০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি করেছেন। তবে বর্তমানে দাম কিছুটা কমেছে। আজকে তিনি বিক্রি করেছেন ১৫০০ টাকা মণে।

কালিয়াকৈর থেকে আসা সবজি ব্যাপারী ফারুক হোসেন বলেন, তিনি শীতকালীনসহ ১১ ধরণের সবজি কিনেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ মণ পণ্য হবে। যেগুলো তিনি নিজ এলাকায় নিয়ে বিক্রি করবেন।

লিয়াকত আলী নামের আরেক পাইকার বলেন, তিনি ৩০ বছর মহাস্থান হাট থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে সিলেট, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। মহাস্থান হাট থেকে তিনি প্রতিদিন ১৪-১৫ টন মাল কেনেন। গড়ে যার দাম হয় সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, মাল কিনে প্রতিদিনই লাভ হবে এমন নয়। তবে কোনো দিন হয়ত ১০ হাজার টাকা লোকসান হলো, পর দিন দেখবেন হয়ত ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এভাবে তিনি ব্যবসা চালিয়ে যান।

মহাস্থান হাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান বলেন, এখন বাজারে যেসব শীতকালীন সবজি উঠেছে, সেগুলো আগাম চাষ করা। যে কারণে যোগান কিছুটা কম। শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম পৌষ-মাঘ মাস। ওই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতকালীন সবজি থাকবে। এখন হাটে সবজি কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি টাকার সবজি কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যান্য সময় দিনে ২ কোটি টাকা বেচাকেনা হয়।