সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্নের রানীগঞ্জ সেতু খুলছে ৭ নভেম্বর

সুনামগঞ্জে দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রানীগঞ্জ সেতু আগামী সাত নভেম্বর উদ্বোধন হবে। এটি সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতু। একই সময়ে দেশের ‘শতসেতু’ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে জেলার জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে বড় শোডাউন করতে চায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এই আয়োজন সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষের দখিন দুয়ার খুলবে প্রধানমন্ত্রীর রানীগঞ্জ সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। জেলার দক্ষিণের উপজেলা জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেই চলবে গণপরিবহন। স্থানীয়রা বলছেন, সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানীর সঙ্গে সুনামগঞ্জের দূরুত্ব কমবে ৫২ কিলোমিটার।

সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের দাবি ছিল রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের। ২০১৭ সালের শুরুতে সেতুটি নির্মাণে কাজ শুরু করে রাজধানীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জন-জেবি।

এরই মধ্যে শান্তিগঞ্জের ডাবর থেকে জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দপুর পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৪৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। রানীগঞ্জের ফেরি পার হয়ে এই পথে তিন বছর হয় যান চলাচলও শুরু হয়েছে। সেতু না থাকায় এই সড়কে গণপরিবহন বা পণ্য পরিবহন হচ্ছে সীমিত আকারে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানালেন, সাত নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী যে একশ সেতু উদ্বোধন করবেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সেতু রানীগঞ্জ সেতু। এই সেতু ছাড়াও জেলার আরও ১৭টি সেতু এদিন উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জে সরাসরি যুক্ত হবেন। রানীগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে এই উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রানীগঞ্জ সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন হবে জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে। রানীগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে মঞ্চসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু করার জন্য ঢাকার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে। অনুষ্ঠান মাঠে ১০ হাজার চেয়ার বসানো হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কল্যাণে পূরণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল বলেই এত বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে। এই সেতু ভাটির অর্থনীতির চিত্র বদলে দেবে। লাখো কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এখন রাজধানীতে সহজেই পৌঁছে যাবে। সেতু উদ্বোধনের দিন উৎসব করবেন ভাটির মানুষ।