ব্যবস্থাপনায় কৌশলী পদক্ষেপ গতি বাড়ছে বিমানে

বিমান বর্তমানে বছরে ১৭ হাজার ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দিতে পারে। আগামী ডিসেম্বরে বিমানের এই সক্ষমতা উন্নীত করা হচ্ছে ২৫ হাজারে। এজন্য বিমান এনেছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং শাখার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি। নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে আরও অন্তত দুশ’ জনবল। সবচেয়ে বড় অর্জন-লাগেজ ডেলিভারি।

এ নিয়ে পাহাড়সম অভিযোগ থাকলেও চলতি মাস থেকেই চমকপ্রদ উন্নতি ঘটেছে লাগেজ ডেলিভারিতে। আগে যেখানে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা লাগত এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৪৫ মিনিটে। এটা সম্ভব হয়েছে ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত পরিবর্তন আনায়। বাড়ছে টিকিট বিক্রি ও রাজস্ব। যাত্রীও বাড়ছে প্রত্যাশাতীত। নতুন নতুন রুট খোলার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নভেম্বরেই নারিতা রুট উদ্বোধন করার জোর প্রস্তুতি চলছে।

রোমেও ফ্লাইট চালানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে জিরো টলারেন্স। ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাদের বিরুদ্ধেই তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমান দাবি করছে, এসব পদক্ষেপে বিমানে গতি বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাণিজ্যিকভাবে বিমান হবে ঊর্ধ্বমুখী। দুর্যোগপূর্ণ প্রতিকূল আকাশ পেরিয়ে বিমান ছুটছে সুন্দর ও নিরাপদ নীলাকাশের পানে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও যাহিদ হোসেন বলেছেন, আমরা ব্যবসা করতে এসেছি। আমাদের টার্গেট তিনটা-সেল বাড়ানো, যাত্রী বাড়ানো ও দ্রুততম সময়ে লাগেজ ডেলিভারি দেওয়া। এ তিনটি লক্ষ্যই অর্জনের পথে। এতে প্রতি কোয়ার্টারেই বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

লাগেজ মিলছে ৪৫ মিনিটে ॥ গত সোমবার জেদ্দা থেকে ঢাকায় আসেন হারুণ দিলাল। তিনি যথারীতি ইমিগ্রেশান পেরিয়ে ট্রলি নিয়ে বেল্ট এরিয়ায় গিয়ে দেখেন তার লাগেজ ঘুরছে। মিনিট কয়েক অপেক্ষা করেই হাতে পেয়ে যান লাগেজ। এত সহজে এত কম সময়ে লাগেজ পাওয়াটা তার কাছে বেশ বিস্ময়কর ঠেকেছে উল্লেখ করে বলেন, এমনটি অতীতে আর কখনো চোখে পড়েনি। এর আগে লাগেজ পেতে সময় লাগত, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্তি লেগে যেত। এবার দেখলাম ব্যতিক্রম।

একই সময় গাউস নামের এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, মনে হচ্ছে আগের চেয়ে পরিস্থিতির বেশ উন্নতি ঘটেছে। তিনি বলেন, বছর খানেক আগে একবার এই বিমানেই এসেছিলাম। লাগেজ পেতে লেগেছিল পৌনে দুই ঘণ্টা। আজ দেখলাম ৪৬ মিনিটেই সবার লাগেজ ডেলিভারি দেওয়া হয়ে গেছে। আমারটা পেয়েছি ৪৪ মিনিটে। আমার পর আর ৭ জন লাগেজ নিয়ে গেছেন। এ রকম যদি সবসময় থাকে তবে ভালোই। এত ঘণ্টার জার্নি করে আসার পর যদি তাড়াতাড়ি লাগেজ না পাওয়া যায়, দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তাহলে মন-মেজাজ ঠিক থাকে না।

উল্লেখ্য, দেশী-বিদেশী সবগুলো এয়ারলাইন্সের লাগেজ ডেলিভারির দায়িত্ব পালন করছে বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং শাখা, যা কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের অধীন। লাগেজ নিয়ে বিমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ ছিল না। সময়মতো লাগেজ না পাওয়া, চুরি যাওয়া কাটা-ছেঁড়ার অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের। কিন্তু আজকের বাস্তবতা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।

যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। আগে যেখানে এক থেকে দুঘণ্টা লাগত একটি আন্তর্জাতিক এয়ারের সুপরিসর উড়োজাহাজের সবগুলো লাগেজ ডেলিভারি দিতে-এখন সেটা গড়ে ৪৫ মিনিটের নিচে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেছেন খোদ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও যাহিদ হোসেন। তিনি জানালেন, এটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

বিমানের টার্গেট একটি ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর প্রথম লাগেজ ডেলিভারি দিতে হবে ১৮ মিনিটে, শেষ লাগেজ ৪৫ মিনিটে। এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং শাখা। এমনও হচ্ছে প্রায়ই লাগেজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে ৪৩ মিনিটেও, গড়ে ৪৫ মিনিটে। যা অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের।

কীভাবে স¤ভব হয়েছে এমন উন্নতি জানতে চাইলে গ্রাহক শাখার পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নিয়ন্ত্রণে এসেছে মূলত ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর জোর দেওয়ায়। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেই সরাসরি বিমনাবন্দরে গিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং তদারকি করেন। যেখানেই ব্যত্যয় দেখেন সেখানেই ব্যবস্থা নেন। যেমন আগে একটা ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর সেখানে হেঁটে যেতেন বিমানকর্মীরা।

এতে সময় লাগত ৮/১০ মিনিট। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশে এখন সেখানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের গাড়ি দেওয়া হচ্ছে। এতে সময় বেঁচে যায় কমপক্ষে ৫/৬ মিনিট। একইভাবে আগে ট্রলি থেকে লাগেজ নামাত যেখানে ৬ জনে, এখন সেখানে জনবল দ্বিগুণ করা হয়েছে। তাতে লাগেজ শেষ করতে সময় কম লাগছে।
বিমানসূত্র জানিয়েছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাহিদ হোসেন ও পরিচালক (গ্রাহক সেবা) নিয়মিত প্রতি সপ্তাহেই অন্তত ৪ বার করে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এয়ারপোর্টে। যেটা আগে কখনো হতো না। এতে বিমানকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব এড়ানো বা অবহেলার কোনো সুযোগ থাকছে না। কর্মীদের প্রডাকশান আগে থেকেই বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলেই দেখা যাচ্ছে অভাবনীয় উন্নতি ঘটছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায়।

নারিতা ও রোম প্রক্রিয়াধীন ॥ বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন রুটও চালুর জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির জাপানের নারিতা ও ইতালির রোমে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি ও প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। বিমানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাহিদ হোসেনও এ দুটি রুট চালুর বিষয়ে বেশ তৎপর রয়েছেন। তিনি মনে করেন, এ দুটি রুটই বাণিজ্যিক সফলতা পাবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিমান ইতোমধ্যেই মার্কেট স্টাডি সহ অন্যান্য কাজ গুছিয়ে আনছে।

জানা গেছে, আগামী ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের জাপান সফরে যাবেন। তিনি নিজেও আগ্রহী ওই সফর বিমানের উদ্বোধনী ফ্লাইট দিয়েই করতে। বিমানকে সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিমান সূত্র জানায়, এ বিষয়ে আগামী ২ নভেম্বর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই মূলত সিদ্ধান্ত হতে পারে কোন পদ্ধতিতে জাপানের এই রুট চালুর বিষয়টি সহজসাধ্য করা যায়।

জানা গেছে, জাপানের সঙ্গে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের দরুন জটিলতা ছিল। ঢাকা থেকে বিমানের প্রস্তুতি থাকলেও জাপানের অনুমোদন না থাকায় সেটা চালু করা যাচ্ছিল না। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান এ বিষয়ে জোর উদ্যোগ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জাপানের অনুমোদন নিতে সক্ষম হন।

তারপরই বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি নারিতা ফ্লাইট চালুর জন্য উদ্যোগী হয়। বিমানের এমডি যাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বিমানের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবেই সেটা বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা রয়েছে বিমানের।

উল্লেখ্য, এক সময় ইতালির রোম ও জাপানের নারিতায় বিমানের নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল। কিন্তু পরে নানা জটিলতার দরুন ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এভিয়েশান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে নারিতার চেয়ে রোমের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে প্রবাসীদের জোরালো দাবি রয়েছে।

জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাহিদ হোসেন বলেন, এখন কথা বলার সময় নয়। সবাইকে কাজ করতে হবে। বিগত তিন মাসে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও যাত্রী বেড়েছে বিমানের। এ সময়ে বিমান যাত্রী বহন করেছে ৮ লাখ ৮ হাজার ৪০ জন- যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক বছরে কমপক্ষে ৩২ লাখ যাত্রী বহন করা যাবে। এ তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। যা অতীতের কোনো কোয়ার্টারেই (তিন মাস) অর্জিত হয়নি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায়ও আশানুরূপ উন্নতি ঘটেছে।

২৫ হাজার ফ্লাইটের সক্ষমতা ॥ বিমান এখন বছরে ১৭ হাজার ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দিতে সক্ষম। বিমানের নতুন টার্গেট্ বছরে এটা ২৫ হাজারে উন্নীত করা। এজন্য বিমান নিয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ইকুইপমেন্ট ও জনবল। বিমান ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডস থেকে শত কোটি টাকা ব্যয়ে এনেছে ট্রলি ডলি, পাওয়ার ইউনিট, বেল্টারসহ ৫শ পিস যন্ত্রপাতি। এগুলো এখন সংযোজন করা হচ্ছে।

এসব পরিচালনার জন্য একশ মোটর অপারেটর, ৫০ জন মেকানিক ও শতাধিক হেলপার নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ নিয়োগের শুরুতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয় গত সপ্তাহে পিয়ন ও চালক শ্রেণির কতিপয় সদস্যের দুর্নীতি ও জালিয়াতির দরুন। বর্তমানে ডিবি পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। বিমান ইতোমধ্যে এদেরকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ধরনের অন্যায় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলে উল্লেখ করে এমডি যাহিদ হোসেন বলেন, যেখানেই ফৌজদারি তদন্ত হবে সেখানেই সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই বাকি নিয়োগ সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হলে বছরে তা দিয়ে কমপক্ষে ২৫ হাজার ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেওয়া যাবে। তখন আর কোনো অজুহাতে কেউ লাগেজ ডেলিভারির কোনো অভিযোগ খ-াতে পারবে না। বলতে পারেন তখন থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দেওয়ার মতো বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও বিমান অংশ নিতে সক্ষম হবে।

হজের আগাম প্রস্তুতি ॥ বিমানের রাজস্ব আয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস হচ্ছে হজ। প্রতি বছরই হজযাত্রী বহন করে বিমান যথেষ্ট লাভবান হয়। করোনার তা-বে দুবছর হজ না হলেও গত বছর থেকে সেটা চালু হয়। এ বছরও করোনা পুর্ববর্তী বছরে সোয়া লাখ হজযাত্রী না হলেও অর্ধেক হয়েছে। তবে আগামী বছর হজে কমপক্ষে বাংলাদেশ থেকে দেড় লাখ হজযাত্রী যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী মাসেই এ বিষয়ে সৌদি আরবে হজের কোটা সংক্রান্ত বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী হজে মোট কোটার অর্ধেক কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার হজযাত্রী বহনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। যাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী বছরও নিজস্ব বহরের উড়োজাহাজ দিয়েই হজ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে।
লেফট বিহাইন্ড লাগেজ কমেছে ॥ এদিকে ঢাকায় কম দামের এয়ারলাইন্সগুলো (বাজেট এয়ারলাইন্স) তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে স্বেচ্ছায় লাগেজ ফেলে আসা কমাতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দরুন দুর্নামের ভাগিদার হতে হতো বিমানকে। লাগেজ না আসা মানেই বাইরে রটানো হতো, বিমান লাগেজ গায়েব করে দিয়েছে।

এ ধরনের অপবাদ ঘুচাতে বিমান বেশ তৎপর হয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহায়তা চায়। এতে বেবিচক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এখন লেফট বিহাইন্ড লাগেজের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে যাত্রীকে ঢাকায় নিয়ে এলেও লাগেজ ফেলে আসা যেন স্বাভাবিক মনে করত বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো। মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বল্পমূল্যে আসা ফ্লাইটগুলোর যাত্রীরাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ না পাওয়ার অভিযোগগুলো করতেন। এক সময় প্রায় প্রতি ফ্লাইটেই ৩০-৫০ যাত্রীর বেলায় এমন ঘটনা ঘটতে থাকে।

তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অভিযুক্ত এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর পাশাপাশি আসনসীমা বেঁধে দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এতেই কাজের কাজ হয়েছে। বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর লাগেজ লেফট বিহাইন্ড বা যাত্রীর সঙ্গে তার লাগেজ নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছনোর ঘটনা নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেকশান সূত্রে জানা যায়, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, ইতিহাদ, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, ওমান এয়ার, গালফ এয়ার, কুয়েত ও জাজিরা এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রে ব্যাগেজ লেফট বিহাইন্ড বেশি হচ্ছিল। তাই এটি বন্ধে বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে গত জুন থেকে কয়েক দফা বৈঠক করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এয়ার অ্যারাবিয়া, জাজিরা এয়ারওয়েজ ও সালাম এয়ারের নির্দিষ্ট মেয়াদে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইটপ্রতি ২০ যাত্রী কম আনতে আসনসীমা বেঁধে দেওয়া হয় এয়ার অ্যারাবিয়াকে। আবার কয়েকটি এয়ারলাইন নিজ উদ্যোগেই ফ্লাইটপ্রতি ২০-৩০টি আসন ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়।

জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ৩১টি এয়ারলাইন শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলোর ফ্লাইটে দৈনিক প্রায় ২২ হাজার যাত্রী এ বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। বিদেশ থেকে আসা অনেক যাত্রীর লাগেজ না পাওয়ার ভোগান্তি দূর করতে নিয়মিতভাবেই বিদেশী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যার সুফল এরই মধ্যে দৃশ্যমান। তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম পরিচালনাকারী ২৮টি বিদেশী এয়ারলাইন্সই প্রতি সপ্তাহে লাগেজ ডেলিভারির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আমাদের দিচ্ছে। বর্তমানে লেফট বিহাইন্ড কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২ থেকে ১ শতাংশে।