পাতাল রেলের যুগে বাংলাদেশ

পাতাল রেলের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২১ স্টেশনবিশিষ্ট ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৩ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) নির্মাণ তদারকি পরামর্শদাতা হিসেবে জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেডের (জেভি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন নাওকি হুদো (জাপান) এবং এমএএন সিদ্দিক (বাংলাদেশ)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন স্মার্ট পরিবহন। যোগাযোগব্যবস্থায় গোটা পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার লাইনটির দুটি অংশ থাকবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর (বিমানবন্দর রুট) পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ হবে এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল (পূর্বাচল রুট) পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়াল। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর যেতে সময় লাগবে ২৪ মিনিট। বিমানবন্দর রুটে ১২টি স্টেশন থাকবে এবং পূর্বাচল রুটে ৯টি স্টেশন থাকবে। পূর্বাচল রুটের নর্দা ও নতুনবাজার স্টেশন থাকবে ভূগর্ভে এবং এই দুটি স্টেশন যাত্রীদের রুট পরিবর্তনের জন্য একটি ইন্টারচেঞ্জ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ‘বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ, যানজট কমাবে মেট্রোরেল’-এ স্লোগানে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের ভৌত কাজ আগামী ডিসেম্বরে শুরু এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে ডিপোর জন্য ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিপোর উন্নয়নে একটি জাপানি কোম্পানির নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠানের জন্য সময় চাওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-১ (এমআরটি-১)-এর কাজ শেষ হলে দৈনিক আট লাখ যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে উড়াল ও ভূগর্ভস্থ লাইন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এমআরটি-১ প্রকল্পের ভৌত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল কর্তৃপক্ষের।

এ প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক জানান, মূলত করোনা মহামারির কারণে ভৌত কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। কারণ অনেক বিদেশি বিশেষজ্ঞ সে সময়ে কাজে যোগ দিতে পারেননি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগারগাঁও থেকে উত্তরা পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের মেট্রোরেল-৬ প্রকল্প আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল-৬ প্রকল্প পুরোটাই উদ্বোধন হবে।’ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘এমআরটি-১ আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হলে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর যেতে মাত্র ২৪ মিনিট সময় লাগবে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে জাইকার অর্থায়ন বাংলাদেশের এগিয়ে চলার জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, জাইকার মূখ্য প্রতিনিধি ইচিগুতি তমোহিদি ও এমআরটি-১ প্রকল্পের পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদারসহ আরও অনেকে।