ঝিনাইদহে শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট ‘রিকো’ কথা বলে, কাজও করে

ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এক মানব রোবট তৈরি করেছেন, নাম দেওয়া হয়েছে রিকো। কলেজের এক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পাঁচ জন শিক্ষার্থীর একটি টিম রোবটটি তৈরিতে সফল হয়েছেন। এ রোবট কথা বলতে, হাঁটতে ও কাজ করতে পারে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষতা অর্জনই এ রোবট তৈরির মুল লক্ষ্য বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

রোবট তৈরির টিমে আছেন, নাঈম আল সাদিক, সুরুজ আহমেদ, মুরসালিন স্মরণ, অর্চনা খাতুন ও হুসাইন মাহমুদ। তাদের মেন্টর হিসেবে কাজ করেন জুনিয়র ইনসট্রাক্টর (ইলেকট্রনিক্স বিভাগ) পবিত্র কুমার বিশ্বাস। তারা সবাই ঝিনাইদহ পলিটেকনিকের রোবট ক্লাবের সদস্য।

রোবটটি তৈরির সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা ও তাদের মেন্টর জানান, এটি তৈরিতে তিন মাস সময় লেগেছে। ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। ঢাকার বাজার থেকে সরঞ্জামাদি কিনে তারা রোবটটি তৈরি করেছেন। সফলতা পেয়ে সবাই আনন্দিত। রোবটটির কাজ দেখে সবাই প্রশংসাও করছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে রোবট রিকোকে দিয়ে ছয় মিনিটের একটি বক্তব্য দেওয়ানো হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের সে হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানায়। রোবট রিকোর স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি সবাইকে অভিভূত করে। ডাক দিলে সাড়া দেয় মাথা নেড়ে।

এ রোবট উদ্ভাবক টিমের টিম লিডার নাঈম আল সাদিক জানান, তাদের একটি মানব রোবট তৈরির চিন্তা ভাবনা ছিল। রিমোট দিয়ে রোবট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কোথাও আগুন লাগলে ভেতরে পাঠানো যাবে। আর রোবট ভেতরের পরিস্থিতি ভিডিওর মাধ্যমে পাঠাতে সক্ষম হবে। তাদের এ ভাবনা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবে বসে তারা কাজ শুরু করেন। এরপর রোবটের ডিজাইন করা হয়। শুরু হয় রোবট তৈরির পর্ব। ঢাকা থেকে অনলাইনে মালামাল কেনা হয়। তিন মাস পরিশ্রম করে রোবটটি তৈরিতে তারা সফল হন। আর মুসালিন বলেন, ‘মানব রোবট তৈরির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে— আমরাও পারি।’

রোবট তৈরি প্রকল্পের মেন্টর পবিত্র কুমার বিশ্বাস জানান, শিক্ষার্থীরা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সি প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোবটটি উদ্ভাবন করেছে। তিনি জানান, এর আগেও এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অ্যাগ্রো রোবট ও ভেন্ডিং মেশিন উদ্ভাবন করেছে, যা জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পুরস্কারও অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে সহযোগিতা পেলে তারা আরো ভালো কিছু করতে পারবে।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের কাজে বরাদ্দ নেই। স্থানীয়ভাবে ফান্ড সংগ্রহ করে রোবট তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, ‘আমাদের এখানে প্রতিভাবান শিক্ষার্থী আছে। তারা সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে আরো কিছু উদ্ভাবন করতে পারবে, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে।’

Views: 13