আমনের আবাদ কমলেও বাম্পার ফলনের আশা: নন্দীগ্রাম

মাঠের পর মাঠ পাকা আমন ধানে মোড়ানো। সোনালি ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। ১৫ দিনের মধ্যেই ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে। কৃষকদের ভাষ্য, এবার রোপা আমন চাষে তেমন বেগ পেতে হয়নি। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম নেই। তবে এ বছর আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

শস্যভাণ্ডার হিসেবে-খ্যাত এ উপজেলায় ধানের শীষের দোলা কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে। অন্যদিকে আগাম চাষ করা ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ফলন ও দাম দুটোই ভালো থাকবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। সম্প্রতি পৌরসভার নামুইট মাঠে আগাম ধান কাটতে দেখা গেছে। এ বছর চলতি রোপা আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার ৪৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ১৯ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার ৫১৫ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ হাজার ১০ মেট্রিক টন। এ উপজেলায় ব্রি ধান ৩৪, ব্রি ধান ৪৯, ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৯০, বিনাধান ৭, বিনাধান ১৭, কাটারিভোগ, রনজিত, ব্রি হাইব্রিড ৪, তেজসহ ১৬ জাতের ধান চাষ হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে, এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে। গতবারের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে।

নামুইট গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, তিনি নিজের ৭ বিঘা এবং পত্তন নেয়া সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে আমন ধান আগাম চাষাবাদ করেছেন। ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।

ইতোমধ্যে ৫ বিঘা কাটা-মাড়াই হয়েছে। স্থানীয় উন্নতজাত শতাব্দি (মিনিকেট) গত বছর ১২ মণ করে ধান হয়েছিল, এবার ১৫ থেকে ১৬ মণ করে হচ্ছে। স্থানীয় উন্নতজাত (খেজুর পাটি) গতবার ১৮ মণ করে হয়েছিল, এবার ২০ মণ করে হচ্ছে। বিনাধান ১৭ গত বছর ২০ মণ করে হয়েছিল, এবার ২২ মণ হয়েছে।

উপজেলার কামুল্যা গ্রামের মোতালেব হোসেন, ভাটগ্রামের মোসলেম উদ্দিন, বর্ষণ গ্রামের আব্দুল মজিদ, আমগাছি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, রিধইল গ্রামের জয়নাল, আবু মুসাসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে কৃষকদের কীটনাশক প্রয়োগসহ সব ধরনের পরামর্শ দেন। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই এবার আমন ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণ খুব কম। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আদনান বাবু বলেন, ‘আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। কৃষকরা নিয়মিত কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।’

সূত্র: ভোরের কাগজ
লিঙ্ক: https://www.bhorerkagoj.com/print-edition/2022/10/22/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0/