রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু ২০২৪ সাল থেকে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) নির্মাণকাজ সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলছে। এই প্ল্যান্ট থেকে ২০২৪ সালে উত্পাদন শুরু করার জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, আগামী বছরের শেষের দিকে প্ল্যান্টে উৎপাদনের ট্রায়াল রান শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (১৯ অক্টোবর) গণভবন থেকে পাবনার রূপপুর এনপিপির দ্বিতীয় ইউনিটে রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল (আরপিভি) স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

গত বছরের ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী আরএনপিপির প্রথম ইউনিটে আরপিভি উদ্বোধন করেন। আরপিভি ইনস্টলেশন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম পারমাণবিক চুল্লির ৩৩তম দেশে পরিণত করেছে।

আরএনপিপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মঙ্গলবার নির্মাণস্থল পরিদর্শনকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, “প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫৩% এর বেশি। প্রথম ইউনিটের কাজ ৭০% এর বেশি সম্পূর্ণ।

তিনি বলেন “আরএনপিপি’তে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হবে। আমরা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি আনতে পারব।”

আরএনপিপি কর্মকর্তারা জানান, আরপিভি হলো এমন একটি উপাদান যা চুল্লি চালু থাকা অবস্থায় পারমাণবিক জ্বালানি ধরে রাখে।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটও অনুরূপ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

আরএনপিপি প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শওকত আকবর বলেন, “আমরা লক্ষ্য পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। আমরা ২০২৩ সালে ট্রায়াল ভিত্তিতে উত্পাদন শুরু করতে পারবো, তবে সরবারহে যেতে পারবো ২০২৪ সালে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন আমরা প্রথম ইউনিটের কাজের শেষ পর্যায়ে আছি, আগামী বছরের অক্টোবরে ট্রায়াল শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি।”

তবে এখান থেকে উৎপাদিত জাতীয় গ্রিডে কবে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে তা বলতে পারেননি আরএনপিপি কর্মকর্তারা, বিষয়টি নির্ভর করবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃপক্ষের ওপর।

আরএনপিপি প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে জনশক্তি প্রশিক্ষণসহ মোট ব্যয় হচ্ছে ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া।

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পর থেকে আরএনপিপি ন্যূনতম ৬০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রচলিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থনৈতিক জীবন সাধারণত ২৫ বছর।

দীর্ঘস্থায়ী পরিষেবার পাশাপাশি প্ল্যান্টটি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনে অবদান রাখবে।

বর্তমানে প্রকল্পে ৩৩ হাজার লোক কাজ করছে। এদের মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার বিদেশি নাগরিক।