তিন মাসে বিমানের রেকর্ড সংখ্যাক যাত্রী বহন ও রাজস্ব আয়

বিগত তিন মাসে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও যাত্রী বেড়েছে বিমানের। এ সময়ে বিমান যাত্রী বহণ করেছে ৮ লাখ ৮ হাজার ৪০ জন। যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক বছরে কমপক্ষে ৩২ লাখ যাত্রী বহন করা যাবে। এ তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। যা অতীতের কোন কোয়ার্টারেই (তিন মাস) অর্জিত হয়নি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায়ও আশানুরুপ উন্নতি ঘটেছে।

এখন ৪৫ মিনিটেই সব লাগেজ ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হচেছ। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও যাহিদ হোসেন এমন তথ্যই প্রকাশ করেছেন। বিগত তিন মাসে বিমানের সার্বিক অগ্রগতির ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এমনই তথ্য উপস্থাপন করেছেন তিনি।

এদিন এভিয়েশান বিটের সাংবাদিকদের একাংশের বর্জনের ঘোষণা উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাহিদ হোসেন জানান, করোনা মহামারি উত্তর সময়ে বিমান একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচেছ।

বিগত তিনমাসে রাজস্ব আদায়, যাত্রী বহণ, ও যাত্রীসেবায় আশানুরুপ অগ্রগতি হয়েছে। যেভাবে যাত্রী বাড়ছে তাতে আগামী এক বছরে কমপক্ষে ৩২ লাখের টার্গেট পূরণ করা যাবে। একইভাবে রাজস্বও বাড়বে। বিমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যাত্রী সেবা। এ জন্য বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে সময় সীমা আরও কমানো হয়েছে। এখন একটি ফ্লাইটের প্রথম লাগেজ ১৮মিনিটে দেয়া হচ্ছে, শেষ লাগেজ দেয়া হচ্ছে ৪৫ মিনিটে। এটা সম্ভব হয়েছে ব্যাপক নজরদারি,তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার জন্য।

যেমন আগে ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর বিমানকর্মীরা পায়ে হেটে সেখানে যেতো। তার পরিবর্তে এখন বিশেষ গাড়িতে তাদেরকে নেয়া হয় ফ্লাইটের নিচে। এখানে সময় কম লাগছে ৪/৫ মিনিট। আগে একটা ট্রলি থেকে লাগেজ নামাতো ৬ জনে। এখন সেখানে কাজ করে ১২ জন। এতে সময় কম লাগছে ৫ মিনিট। একই ভাবে অন্যান্য ইউনিটেও পরিবর্তন আনায় ৪৫ মিনিটে সব লাগেজ দেয়া সম্ভব।

সপ্তাহে চার দিন নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সার্বিক কর্মকান্ড তদারকি করার কথা উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিমান সম্পর্কে নানা রকম আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে- বিমান চার বিলিয়ন ডলারের একটি কোম্পানি। বাংলাদেশের বিমান আইএটিএ স্বীকৃত একমাত্র প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ইএএসএ কর্তৃক পরিচালিত অডিটে বিমানকে কোন ধরণের পর্যবেক্ষণা দেয়নি। এটা অবশ্যই বড় অর্জন।

আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান দ্বারা বিমানের সেফটি অডিট করা হয়। সেদিক থেকে দেশে বিমানই একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এসব বিবেচনায় অন্য আর দশটা এমডির চেয়ে বিমানের এমডি অবশ্যই সেরা। আমি সাংবাদিক সহ সবার ফোন ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু আমি নিজে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের এমডিকে পাইনি। আমরা চেষ্টা করছি- বিমানকে একটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার।

বিমানের দুটো এয়ারক্রাফট দুর্নীতি নিয়ে দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যাহিদ হোসেন বলেন, দুদক একটা তদন্ত করছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে যেসব তদন্ত চলে সেগুলো নিয়ে কথা বলার আমাদের প্রয়োজন নেই। এ ধরণের তদন্তে আমরা সহযোগিতা করব।

এ ঘটনায় পলাতক ক্যাপ্টেন ইশরাতকে তলব করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যখন কোন সংস্থা যে তথ্য চাইবে আমরা সেটাই দেব, সহযোগিতা করব। ইশরাতের নামে কিছু চাওয়া হয়ে থাকলে তথ্য দেয়া হবে।

পাইলট নিয়োগ নিয়ে নানা দুর্নীতি ও নারী পাইলটদেরকে হয়রানি সম্পর্কে ক্যাপ্টেন সাজিদের বিরুদ্বে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে যাহিদ হোসেন বলেন, অবশ্যই যে সব অভিযোগ পাওয়া যাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিভিন্ন মেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু এখনো কোন নারী পাইলট বিমানের কাছে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়নি। তবে আমরা এবিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। ব্যবস্থা নেয়া হবে।

থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা বিমানের কতটুকু রয়েছে দৈনিক জনকন্ঠের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আগামী দু’থেকে তিনমাসেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে লোকবল নিয়োগ ও জনবল বাড়াচ্ছি। তখন বিশ্বমানের সেবা দেয়ার জন্য আমরাও ফাইট দিবো।

নারী ফুটবলারের লাগেজ চুরি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতায় আজকের সংবাদ সন্মেলন একাংশের বর্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এমডি যাহিদ হোসেন বলেন, আপনাদের অধিকার রয়েছে বর্জনের। সেটা করেছেন।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে সময় আমি দেশেই ছিলাম না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশে ছিলাম। নারী ফুটবলারদের লাগেজ থেকে চুরি যাওয়ার ঘটনার শুরু থেকেই বিমানকে দায়ী করে মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায়।

অথচ ওই ঘটনার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখতে সময় লেগেছে কয়েক ঘন্টা। ওই সময়টুকুতেই সাংবাদিকরা বিমান অফিসে এসে ভিড় জমান। তাদেরকে ফুটেজে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে বি্রৃফ দিতে সময় লেগেছে। এতেই হয়তো মিডিয়ার কেউ মনক্ষুন্ন হয়েছেন। তারপরও আমি আশ্বাস দিচ্ছি আগামী তিন মাসের মধ্যে মিডিয়ার বিষয়টাও বেশ অগ্রগতি দেখতে পাবেন। আপনাদের যথাযোগ্য সম্মান দেয়ার জন্য আমার সচেষ্ট থাকব।