ডোমারের খামারে পাওয়া যাবে ৩৫০ মেট্রিক টন ধানের বীজ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খামারটি মূলত আলুর ভিত্তি বীজ উৎপাদন খামার। তবে বিএডিসির এ খামারটি এবার আলুর বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি ২৪০ একর আউশ ধানের জমিতে ভিত্তি বীজ উৎপাদন করে চমক সৃষ্টি করেছে। সেখানে ৩৫০ মেট্রিক টন ধানের বীজ উৎপাদনের আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই পরিমাণ বীজ ছাড়াও খামারে ধান পাওয়া যাবে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য দুই কোটি টাকার ওপরে। উৎপাদিত ভিত্তি বীজ দিয়ে আউশের আবাদ করা যাবে ৩৫ হাজার একর জমিতে।

বিএডিসি কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভিত্তি আলু বীজ উৎপাদনের জন্য (৬৫০ একর) বিএডিসির এই খামারে প্রতিবছর আলু চাষের পর গম ও ধৈঞ্চা চাষ করা হতো।

এবার ওই ২৪০ একর জমিতে আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনে ব্রি-৪৮, ব্রি-৯৮, বিনা-২১ ধানের আবাদ করা হয়। এছাড়াও আমন আবাদ করা হয়েছে ৫৩ একর জমিতে। এতে করে একদিকে খড়া সহিষ্ণু আউশ ধান বীজের সংকট কাটবে ও বোরো আমন মৌসুমে কর্মহীন কৃষি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে, জমির উর্বতা শক্তি বৃদ্ধি পাবে, বীজ আলু আবাদে জমির চাষ কম লাগবে, রোগ বালাই কম হবে।

খামারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে সোনালী পাকা ধানের মাঠ। কোথাও আবার ধান কাটা হয়েছে। সেই জমিতে ভিত্তি আলু বীজ উৎপাদনের প্রস্ততি চলছে।

খামারের সহকারী পরিচালক সুব্রত মজুমদার বলেন, ‘আগে খামারে বছরে দুটি ফসল হতো। একটি হলো ভিত্তি বীজ আলু, অপরটি গম। এখন আউশ বীজ ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, এবার ২৪০ একর জমিতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে ৩৫০ মেট্রিক টন বীজ ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। প্রতি টন বীজের মূল্য ৫০ হাজার টাকা দরে যার বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে দুই কোটি টাকার ওপরে। এছাড়া, অসময়ে ধান আবাদে প্রায় তিনশ’ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বোরো আমন মৌসুমে কর্মহীন হয়ে পড়া কৃষি শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, লাভজনক হলেও প্রতি বছর এ জেলায় কমছে আউশ ধানের আবাদ। চলতি বছর নীলফামারীতে এক হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত বছর এক হাজার ৬৯৫ ও ২০২০ সালে আবাদ হয়েছিল এক হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খামাত পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও এই খামারের কৃষি শ্রমিক রেয়াজুল ইসলাম (৩২) বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০০ শ্রমিক ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে খামারে কাজ করি। এবার খামারে আউশ ধানের আবাদ হওয়ায় কাজ করতে পারছি, আশ্বিন মাসের অভাবও কেটে গেছে।’

উপজেলার শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য কাবিল মিয়া (৪১) বলেন, ‘ভাদ্র-আশ্বিন মাসে খামারে কোনও কাজ থাকতো না। তখন সংসারে অভাব দেখা দিতো। এবার খামারে কাজ করে সেই সমস্যা কেটে গেছে।’

খামারের উপ-পরিচালক মো. আবু তালেব মিঞা বলেন, ‘খামারে এক নাগারে বীজ আলু চাষ করায় নানা ফসলের রোগব্যধি বাড়ছে। আউশ আবাদের পর ওই জমিতে আলু চাষ করলে ব্যাকটেরিয়া জাতীয় রোগ-বালাই কমবে। পশাপাশি মানসন্মত আউশ বীজ উৎপাদন হবে।’ তিনি জানান, আউশ আবাদে সেচ খরচ নেই বললেই চলে। ১১৫ দিনের মধ্যে ধানের ফলন উঠানো যায়। ক্ষেতে আগাছা কম হয়, উঁচু জমিতে আবাদ করা সম্ভব।’

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘কৃষকরা সব সময় লাভ খোঁজে। ধানের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় তারা ভুট্টা চাষ করছেন। কিন্তু আউশ আবাদে অনেক উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না। সেচ খুবই কম লাগে। সে কারণে উৎপাদন খরচও কম। আউশ কেটে ওই জমিতে আগাম আলুসহ শীতকালীন সবজি চাষ করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন।’