ওষুধ খাতের দাপটে ঘুরে দাঁড়াল পুঁজিবাজার

ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবস মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে ৮৯ পয়েন্ট। তবে সূচক বাড়লেও কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম। গত সোমবার সূচক পতনের একদিন পর মঙ্গলবার সূচক বাড়ল। তার আগে টানা তিন দিন সূচক বেড়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার ওষুধ খাতের ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫টির, কমেছে ৮টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। এই ১৫ কোম্পানির মধ্যে সূচক বৃদ্ধিতে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ অবদান রেখেছে বিকন ফার্মাসিটিউক্যাল লিমিটেডের শেয়ার। এরপর ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ সূচক বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে ওরিয়ন ফার্মা। একই খাতের কোম্পানি কোহিনুর ক্যামিকেলের শেয়ার সূচক বাড়াতে অবদান রেখেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়াও বেক্সিমকো লিমিটেড ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশন ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সি পার্ল হোটেলের শেয়ার সূচক বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাজারে ৩৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মোট ২০ কোটি ৩৭ লাখ ৪২ হাজার ১৪৭টি শেয়ার ও ইউনিটের কেনাবেচা হয়েছে। যার মূল্য ১ হাজার ২৯০ কোটি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৮২ কোটি ৮২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ১১২টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৫৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শেয়ার। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। তৃতীয় স্থানে ছিল ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড। এরপর যথাক্রমে লেনদেনের শীর্ষে ছিল- বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, সোনালী পেপার, জেএমআই হসপিটাল, শাইনপুকুর সিরামিক, বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেড এবং কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ২৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৮১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৮ টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ২৪ লাখ ৮১ হাজার ৯১২ টাকার শেয়ার।

দর হারানোর শীর্ষে কেয়া : সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১২টির বা ৩০.৩৫ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেয়া কসমেটিকসের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের কার্যদিবসে কেয়া কসমেটিকসের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ৮.৩০ টাকায়। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে এর শেয়ারের ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ৭.৮০ টাকায়। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ার দর ০.৫০ টাকা বা ৬.০২ শতাংশ কমেছে। এর মাধ্যমে কেয়া কসমেটিকস ডিএসইর টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।

এদিন ডিএসইতে টপটেন লুজার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৫.৭১ শতাংশ, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ৪.৪৬ শতাংশ, বিআইএফসির ৪.৩৪ শতাংশ, বিডি থাই ফুডের ৪.১০ শতাংশ কমেছে।