ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে মাল্টার আবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টার আবাদ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকরাও ঝুঁকছে মাল্টা চাষে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তার। এতে প্রতি বছর জেলায় মাল্টা বাগানের সংখ্যাও বাড়ছে। চলতি বছর প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ছয় হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগ আশা করছে এ বছর জেলায় প্রায় ২ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদিত হবে যার বাজারমূল্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম মাল্টার চাষ শুরু হয়। জেলার সবকটি উপজেলায় মাল্টার আবাদ হলেও বিজয়নগরে মাল্টা বাগানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধু এই উপজেলাতে এ বছর ৬৫ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। উপজেলার সিঙ্গারবিল, পাহাড়পুর ও বিষ্ণুপুরে তিন ইউনিয়নে বাগানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনা উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ছোট, বড় ও মাঝারি কৃষকদের চারা, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ছোট-বড় মিলিয়ে জেলায় প্রায় ১৯শ বাগান রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই মাল্টা আবাদে ঝুঁকছে। জেলায় বারি-১, বাউ-৩ ও থাই বারোমাসী জাতের মাল্টার আবাদ হচ্ছে।

কয়েকজন বাগান মালিক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মাল্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাগানের পরিধি বাড়ছে। এবার বাগান পরিচর্চা বাবদ খরচ বাদ দিয়েও তারা আশানুরূপ লাভবান হবে।

বিজয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, বিজয়নগরে উৎপাদিত মাল্টা খেতে সুস্বাদু। নতুন নতুন বাগান স্থাপনের ফলে মাল্টার আবাদ ও উৎপাদন আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুশান্ত সাহা জানান, মাল্টার আবাদকে জনপ্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবারের মৌসুমে ২৭ কোটি টাকার মাল্টা উৎপাদিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মাল্টার চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে বলে জানান তিনি।