আখ চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

ঝালকাঠিতে এবার আখ চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখের হাসি ফুটেছে। ফলে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেকেই।
ঝালকাঠি কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, আধুনিক কাদি পদ্ধতিতে আখ চাষ করে কৃষক ভালো ফলন পেয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলার ২০২ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এ বছর হলুদ রঙের আখ, গেন্ডারী লাল আখ, টেনাই ও অমৃত জাতের আখের আবাদ করেছেন। একই জমিতে আখের পাশাপাশি বিভিন্ন শাক-সবজিও চাষ করছেন কৃষক।

কৃষক দুলাল হাওলাদার জানান, তিনি দুই একর জমিতে হলুদ জাতের দেশীয় আখ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ১২ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করেছিলেন তিনি। পরে ৫০ হাজার টাকায় ক্ষেত বিক্রি করেছেন।

কৃষি অধিদফতর সূত্র জানায়, আখ চাষ করে কৃষকরা আশানুরূপ ফলনও পেয়েছেন। এভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে ভালো জাতের আখ চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেকে। চলতি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলার ২০২ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আশ্বিন মাসেই আখ চাষ করা হয়। প্রথমে জমির মাটি এক ফুট গর্ত করতে হয়। গর্তের পাশে তিনফুট জায়গা রেখে মাটির সঙ্গে বিভিন্ন সার মিশিয়ে আখের চারা রোপণ করা হয়।

বয়স এক বছরের মাঝামাঝি হলে আখ বিক্রির উপযুক্ত হয়। আখ চাষে সার ও কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। তবে তিনবার সেচের প্রয়োজন পড়ে। কম পরিশ্রমে ও অল্প ব্যয়ে বেশি সফলতা পাওয়ায় এখন কৃষকরা আখ চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন। তবে উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ঝালকাঠিতে আখচাষিদের জন্য নেই কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, প্রণোদনা এবং নেই কোনো প্রকল্পও।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ধান ও অন্যান্য শাক-সবজির তুলনায় আখ চাষে খরচ কম হওয়ায় আখের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। আমরাও তাদের সার্বিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত দিক নির্দেশনা দিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, এ জেলার মাটি এঁটেল দো-আঁশ হওয়ায় এখানে আখ চাষে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বেশ সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা।