প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে

দিনাজপুরের কাহারোলের ঢাকা-দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ কলার হাট দশ মাইল হাট। এখন প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা কাঁচা কলার ছড়ি বিক্রি হচ্ছে এই কলার হাটে। শত শত ট্রাকে এই কাঁচা কলার ছড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় । ফলে কয়েকশত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে কলা চাষের উপযোগী জমি থাকায় কলার আবাদ দিনে দিনে বাড়ছে। এখানকার কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। বর্তমানে বাজারে কলার দাম বেশি থাকায় এবং উৎপাদন বেশি হওয়ায় কলা চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা।

কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসমে কাহারোল উপজেলায় ৩২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কাহারোলের দশ মাইল কলার হাটে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে কলা চাষি, ব্যবসায়ী ও পাইকারদের। বাজার জুড়ে সারি সারি কলার কাদি সাজানো হয়েছে। চাষিরা ভ্যানযোগে ভোরে কলা নিয়ে হাটে আসেন। পাইকার ও কলাচাষিদের মধ্যে দর কষাকষির মধ্যেই ভ্যানের উপর থেকেই কলা ছড়ি বিক্রি হয়ে যায়।

কাহারোল উপজেলার নয়াবাদ গ্রামের কলা চাষি আবুল কাশেম জানান, তিনি এবার ১ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন দশ মাইল কলার হাটে ১০০ কলার কাদি নিয়ে এসেছেন বিক্রি করেছেন ৪৫ হাজার টাকা।

একই গ্রামের কলা চাষি আব্দুল জলিল বলেন, প্রতিটি কলার কাদি ৩৯০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এ বছর সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছি উল্লেখ তিনি আরো বলেন , কলার ফলন বেশ ভালোই হয়েছে। এমন দাম পেলে এই বছর ৩ লক্ষাধিক টাকা বিক্রি হবে। এতে ভালোই লাভ হবে আশা করছি।

ঢাকা থেকে আগত কলা ব্যবসায়ী মো. রইস উদ্দীন তালুকদার। তিনি জানান, ভালো মানের কলার দাম ভালোই রয়েছে। প্রতিদিন তিনি তিনট্রাক কলা ঢাকা পাঠাচ্ছেন।

কলা ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দীন এসেছেন ফেনী থেকে তিনি বলেন, ১ মাস আগে কলার দাম আরো বেশি ছিল। এখন দশমাইল কলার হাটে কলার বেশি করে আসায় আগের তুলনায় একটু কমে গেছে। তবে চাষিরা অনেক লাভবান হচ্ছে ।

এই দশ মাইল কলার হাটে বীরগঞ্জ, পীরগঞ্জ, খানসামা, সেতাবগঞ্জ, বিরল ও সৈয়দপুর হতে দশ মাইল কলার হাটে বিক্রি করার জন্য কলা চাষিরা কলা নিয়ে আসেন। শ্রাবণের শুরু থেকে কার্তিক মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কলা বিক্রির সময়। বিভিন্ন এলাকা হতে ভ্যান, পিকআপ ও নসিমনে করে এ হাটে বিক্রির জন্য কলা আনেন বিক্রির জন্য কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ভোর থেকে কলার হাটে কেনা বেচা শুরু হয় চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। কলা ক্রয় শেষে ব্যবসায়ীরা ট্রাক যোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কলা বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

দশমাইল কলার হাটের শ্রমিক এরশাদুল জানান, এই হাটে প্রতিদিন ট্রাক লোড করে প্রতিদিন একজন শ্রমিক ৮-৯শত টাকা রোজগার করতে পারি। এখানে কয়েকশত শ্রমিক কাজ করি।

এ ব্যাপারে কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ আবু জাফর মো. সাদেক বলেন, কলা একটি লাভজনক ফসল। কলা চাষের জন্য কৃষকদের সব প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।