আনোয়ারা মৃৎ শিল্পালয়ের আশীর্বাদ এবার দেবী দুর্গা

গেল কয়েক বছর করোনা মহামারির কারণে পেশা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অধিকাংশ পেশার মানুষ। বিশেষ করে করোনা পথে বসিয়েছে ব্যবসায়ী, শিল্প কারিগর ও উদ্যোক্তাদের। অভিজাত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের সব ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জীবন যেন টালমাটাল হয়ে পড়েছিল করোনায়। গত দু-তিন বছরে মহামারির বড় প্রভাব পড়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা কারিগর মৃৎ শিল্পালয়ে।

করোনার প্রভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ঘরেও যেন পড়েছিল চৈত্রের খরা। তবে এবারে ভাগ্য যেন ফিরল তাদের। করোনা-পরবর্তী গত বছরের তুলনায় এবারের দুর্গাপূজাতে মৃৎ শিল্পালয়ে বেড়েছে কাজের ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততায় বেড়েছে কাজের পরিধি। ব্যস্ততায় ভরা এই সময়কে কারিগররা মনে করছেন দেবী দুর্গার আশীর্বাদ। এবারের পূজাকে সামনে রেখে তাই প্রতিমার মূল্য ও কারিগরদের পারিশ্রমিক বেশি হওয়ায় মৃৎ শিল্পালয়গুলোতে চলছে আনন্দের জোয়ার। পূজাকে সামনে রেখে দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হবে পূজার আড়ম্বর। এ নিয়ে মৃৎ শিল্পালয়ে কারিগরদের মাঝে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্যস্ততা বেড়েছে মৃৎ শিল্পালয়গুলোতে। দিন-রাত পরিশ্রম করে মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন অসাধারণ নৈপুণ্য সব প্রতিমা। আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী বন্দনা। ৫ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান চলার পর ৫ অক্টোবর মহাদশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জন।

সরেজমিন আনোয়ারার মৃৎ শিল্পালয়গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, শিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়, মাটি, পাট আর কাদায় তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। কয়েক দিন পর শুরু হবে সাজরূপ ও মণ্ডপ তৈরির কাজ। আপন রূপে দেখা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দেবী দুর্গা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সবচেয়ে বড় মৃৎ শিল্পালয় হচ্ছে জয়কালী শিল্পালয়। এখানকার প্রধান মৃৎশিল্পী রাকেশ রায় জানান, বছরজুড়ে তেমন একটা ব্যস্ততা না থাকলেও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মাসখানেক আগে থেকে বেড়েছে ব্যস্ততা। সর্বশেষ এই সপ্তাহের শেষের দিকে প্রতিমার রংতুলির কাজ শুরু হবে। দুয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণরূপ প্রতিমার কাজ শেষ হবে। এবার তিনি ৭ জন শ্রমিক নিয়ে ১২টি বড় প্রতিমা (দুর্গা) ও ৪০টি ছোট প্রতিমা তৈরি করেছেন। একেকটি বড় প্রতিমা ৭৫-৮০ হাজার টাকার মতো দাম পড়বে বলেও জানান তিনি। সব মিলিয়ে তিনি এবার দেড় লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। আশা করছেন আয় হবে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা।

এবারের দুর্গাপূজার সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুগ্রীব মজুমদার দোলন জানান, এবার উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১২০টি মণ্ডপে সার্বজনীন পূজা এবং ১৩৫ মণ্ডপে ঘটপূজা উদযাপন হবে। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। এর মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। আশা করি সবার সহযোগিতায় পূজা শেষ হবে।