দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যাবে জাতীয় গ্রিডে

সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের বন্ধ থাকা এক নম্বর কূপের ওপরের স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য ওয়ার্ক ওভারের কাজ শুরু করেছে সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেড। ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হলে দৈনিক গড়ে ৭ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা। এ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বিয়ানীবাজারে গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত ওই কূপের ওয়ার্ক ওভার কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও সিলেট গ্যাসফিল্ডসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস উত্তোলনকে সামনে রেখে ২০২০ সালে সিলেট গ্যাসফিল্ডের তিনটি বন্ধ কূপের অন্যান্য স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে ইতোমধ্যে তিনটি কূপের মধ্যে হরিপুর গ্যাসফিল্ডের ৮ নম্বর কূপ ও কৈলাসটিলা গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর কূপের ওয়ার্ক ওভার সম্পন্ন হয়ে দুটি গ্যাসকূপ থেকে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। সবশেষ কূপ হিসাবে বিয়ানীবাজারের ওয়ার্ক ওভারের কাজ আজ শুরু হলো। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ আছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। যেহেতু দেশে গ্যাসস্বল্পতা রয়েছে, তাই ডিসেম্বরের আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই কূপ থেকে ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা রয়েছে। এই কূপের কাজের শুরুর দিনে উপস্থিত থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, নতুন কূপ খননের চেয়ে ওয়ার্ক ওভারে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয় এবং তিনি আশা করেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ কাজটি শেষ করতে পারবে বাপেক্স।

সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন চারটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। এ চারটি গ্যাসক্ষেত্রের ২২টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হতো। কিন্তু নির্দিষ্ট স্তরে গ্যাস শেষ হওয়ায় ২০২০ সাল পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় ১২টি কূপ, ১০টি কূপ সচল থাকে। উৎপাদনে নেমে যায় প্রায় ৮০ মিলিয়নে। সে কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কূপগুলোর মধ্যে তিনটি কূপের অন্যান্য স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রকল্প হাতে নেয় এসজিএফএল। সেই প্রকল্পের দুটি কূপের ওয়ার্ক ওভার শেষে এখন সিলেট গ্যাসফিল্ডের ১২টি কূপ সচল রয়েছে। আর এসব কূপ থেকে দৈনিক ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। প্রকল্পের শেষ কূপটি ছিল বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ১নং কূপ। বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে দুটি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১নং কূপ থেকে ১৯৯৯ সালে উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৭ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ গ্যাসক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে বলে জানান এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান।