আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

শনিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। গত তিন বছর ধরে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘কাজের মাঝে জাগাই আশা’। বিশ্বে আত্মহত্যা প্রতিরোধে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা দিবসটি পালন করে আসছে।

২০০৩ সাল থেকে দিবসটি পালন করা শুরু হলেও ২০১১ সালে প্রায় ৪০টি দেশ এই দিবসটি উদযাপন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক নির্যাতন, কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, প্রাত্যহিক জীবনের অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং মাদক ইত্যাদি কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করে আসছে আঁচল ফাউন্ডেশন। আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংগঠনটি শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে জানানো হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিগত আট মাসে আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯৪ শতাংশ স্কুলগামী শিক্ষার্থী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রবণতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দশম। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ এই দিবস পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর দেশে কমপক্ষে ১৩ হাজার থেকে ৬৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। গত এক যুগে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে আত্মহত্যায় মৃত্যুহার প্রতি লাখ মানুষে কমপক্ষে ৭ দশমিক ৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৬ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। সংস্থাটির মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। এছাড়াও এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।