আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় ৪৬১ কোটি ডলার

চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের আগস্টে ৩৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডালারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল; অর্থাৎ সেই সময়ের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬.১৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে ৪৩০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির আশা করেছিল সরকার, সে হিসাবে আয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭.১৪ শতাংশ বেশি। এবারের অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪.৭২ শতাংশ বেশি ছিল। রপ্তানির এই উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে বরাবরের মতোই বিশেষ ভূমিকা রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইলসহ অন্যান্য পোশাক পণ্যের। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অন্যতম বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতির কারণে ওই অঞ্চলে পোশাক রপ্তানি স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেছে বলে শিল্প মালিকদের ধারণা।

গত সপ্তাহে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর একাধিক নেতা জানিয়েছিলেন, পশ্চিমা ক্রেতাদের কেউ কেউ পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশে কাটছাঁট করছেন। অনেকে পোশাক তৈরির পর তা কিছুটা বিলম্বে গ্রহণ করতে চাইছেন। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাস শেষে দেশের রপ্তানি আয়ে ২৫.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে।

দুই মাস মিলিয়ে মোট রপ্তানি হয়েছে ৮৫৯ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪.৫২ শতাংশ বেশি। এদিকে গেল দুই মাসে দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় করেছে পোশাক খাত। ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭.১১ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬.১০ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি এসেছে ৭.২৪ শতাংশ।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮২.৭৮ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। যার মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০.১৫ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে প্রায় ৮ শতাংশ। ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৩.১৯ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪.২৩ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ৬.৪০ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬.৬৩ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এই উল্লম্ফন আমাদের আশান্বিত করেছে। এই সংকটের সময় রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়াটা খুবই দরকার ছিল। এর মধ্যদিয়ে রিজার্ভ বাড়বে। ডলারের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, সেটাও কেটে যাবে বলে আশা করছি। এছাড়া চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকান ক্রেতারা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে।

তাই আগামী দিনগুলোতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে। বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আশা করছি, যুদ্ধ পরিস্থিতি তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমাদের রপ্তানির ইতিবাচক ধারাও অব্যাহত থাকবে। যতো সংকটই থাকুক না কেনো আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে। হয়তো গত অর্থবছরের মতো অতো বেশি হবে না। তবে, রপ্তানি বাড়বে। দুই মাসে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি খাতের নতুন খেলোয়াড়। গত অর্থবছরে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এই খাতে ৫৩.৩৯% আয় বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৬৮.৫২ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৭৫.০৬ মিলিয়ন ডলার।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে এই সময়ের মধ্যে কৃষিপণ্যে গত অর্থবছরে ২০৭.২৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৪% নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ১৭৮.২২ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্যে গত অর্থবছরের সব মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থেকে এবারে আশার আলো জ্বালিয়েছে। ২২.৬৭% বৃদ্ধি পেয়ে এই খাতে আয় হয়েছে ১৫৬.৬১ মিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ১২৭.৬৭ মিলিয়ন ডলার ছিল।