মোংলায় ৫৫ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চুক্তি সই

বাগেরহাটের মোংলায় নিজস্ব পরিচালনার ভিত্তিতে ৫৫ মেগাওয়াট একটি বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ-চায়না কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) একটি চুক্তি সই অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিডিবি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ২০ বছর বিদ্যুৎ কিনবে।

রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এ চুক্তি সই হয়। আনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে বায়ু থেকে ২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা করা হচ্ছে।

৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলমান এবং আরও ৫টি প্রকল্পের অধীনে ২৩০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম উৎস হিসেবে বায়ুর আকার দিনে দিনে আরো বড় হবে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের ৯টি স্থানে বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্য বায়ু প্রবাহের তথ্য উপাত্ত (ডাটা) সংগ্রহ করে ও উইন্ড ম্যাপিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিক উপযুক্ততা যাচাই করে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে বাগেরহাট মংলায় স্থাপিত হতে যাওয়া ৫৫ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এধরণের প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকার ন্যাশনাল রিনিউএ্যবল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরইএল) প্রদত্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা বিশেষত খুলনার দাকোপ, চট্টগ্রামের আনোয়ারা এবং চাঁদপুরের নদী মোহনার এলাকাসমূহে ১০০ মিটার উচ্চতায় বাতাসের গড়বেগ ৬ মিঃ/সেঃ এর বেশি যা বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

চুক্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে বোর্ডের সচিব গোলাম রাব্বানী ও মংলা গ্রীণ পাওয়ার লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝু ওয়েনটাও স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুঠানে অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান ও মংলা গ্রীণ পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝু ওয়েনটাও বক্তব্য রাখেন। এটি বাংলাদেশে প্রথম বায়ু শক্তিনির্ভর একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে।