ত্রিশালে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে শাপলা বিল

ময়মনসিংহ শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে রামপুর ইউনিয়নে বিশাল চেচুয়া বিল এখন সবার মুখেই শাপলা বিল নামে পরিচিত। এ বিলে লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনী রংয়ের শাপলা দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে।

এ চেচুয়া বিল এখন সবাই শাপলা বিল নামে চেনেন। এ বিলের শাপলা ফুল সহজে উপভোগ করার জন্য স্থানীয়রা হরেক রকম নৌকা তৈরী করেছেন। যে কেউ আসলে একবার হলেও বিলের শাপলা অবলোকন করতে মন নাড়া দিবেই।

এ শাপলা বিল দেখতে প্রতিদিন কাকাডাকা ভোর থেকে শুরু হয় পর্যটকদেও আনাগোনা। সকল শ্রেনীর পেশার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় , জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ শাপলা বিল দেখতে ভিড় জমান।

এখন ত্রিশালের এ শাপলার বিল প্রকৃতির অপরূপ রূপে সেজেছে। এ বিলের যতদূর চোখ যায়- শাপলা ফুলের রক্তিম আভার হাতছানি। বিলের পানিতে মাথা উঁচু করে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল, সাদা, বেগুনী শাপলা। সাথে ভাসমান কচু ফুলের সাদা আভা সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। তাই গত এক বছর ধরে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ এর সৌন্দর্য দেখতে ভীড় জমাচ্ছে এখানে।

শাপলা বিলের পাশেই গড়ে উঠেছে হরেক রকম দোকানসহ খাবারের দোকান। বিলের মাঝখানে বাঁশের মাধ্যমে তৈরী করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। যেখান থেকে শাপলা বিল কাছ থেকে উপভোগ করা যাবে। বিলের মধ্যে দর্শনার্থীদের ঘুরার জন্য নতুন করে সাজানো হয়েছে নৌকা।

ময়মনসিংহ শহর থেকে ঘুড়তে আসা নাজমুল-রোকেয়া দম্পত্তি জানান, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও অনেকের কাছে শুনে শাপলার বিল দেখতে আসছি। নৌকা দিয়ে পুরো বিলটা ঘুরে দেখে অনেক আনন্দ লাগছে। বাচ্চারাও বায়না ধরেছিল। এখানে এসে কাছ থেকে শাপলার উপভোগ করতে পেরেছি।

বিল দেখতে আসা কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী জানান, গত বছর প্রথম আমরা আমাদের বন্ধুর মাধ্যমে এ শাপলা বিলের কথা জানতে পারি। তখনও এসে ছিলাম। কিন্তু তখনকার থেকে এখন শাপলার পরিমান অনেক বেশি। কয়েক রংয়ের শাপলা ফুল ফুটে আছে। সকালের প্রথম সূর্যের আলোতে শাপলা ফুল দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। শীতের সকালের কুয়াশা ও সূর্যের আলোর মিশ্রনে এ শাপলা বিল আরও অনেক সুন্দও হয়ে ফুটে উঠে। শীতকাল আসলে আমরা আবার আসবো।

সারাদেশের মানুষ এ বিলকে চিনেছে একটি অলৌকিক ঘটনার গুজবকে কেন্দ্র করে। একদিন রাত পেরিয়ে সকাল হতেই কিছু লোক দেখতে পায় সেখানে থাকা জমাট বাধা কচু হঠাৎ সরে গিয়ে অনেকটা জায়গা ফাঁকা হয়েছে। এটাকে অলৌকিক ভেবে কয়েকজন এখানে গোসল করে ও এর পানি খেয়ে রোগ থেকে মুক্ত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশের হাজার হাজার মানুষ এই কাঁদা মাখা পথ পেরিয়ে কাঁদা মাখা পানিতে গোসল, গড়াগড়ি ও কাদাযুক্ত পানি সংগ্রহ করতে ভীড় করতে থাকে।

এমন গুজবও ছড়ানো হয়েছিল বিলের পানিতে এক ডুবেই সেরে যাবে যেকোনো রোগ। এখানকার মাটি ও পানি নাকি সর্বরোগের ওষুধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে হাজারো মানুষের তথাকথিত তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছিল এ চেচুয়া বিল। ঐসময় উপজেলা প্রশাসন, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে চেচুয়া বিলের পানি, মাটি, কচুরিপানা ব্যবহার না করার জন্য প্রথমে মাইকে আহ্বান জানান। এতে কাজ না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের লাঠিচার্জের আদেশ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিলটিতে যেন সারা বছর শাপলা ফুল থাকে এজন্য সৌন্দর্য রক্ষার্থে বিলে ফুল তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সারা বছর মানুষ শাপলা দেখতে পারবে। আশা করা যাচ্ছে এ বিল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্থান করে নিবে।