বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৯.২ শতাংশ, চালু আগামী জুনে

শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর রোডে নির্মিত বিআরটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ। এ কারণে এক যুগ আগে শুরু হওয়া দেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্প চালু হতে আরও প্রায় এক বছর লাগবে।

চলাতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে সেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না। পুরো কাজ শেষ হতে আগামী বছর মার্চ লেগে যেতে পারে। এরপর বাস চলাচলের জন্য আরও ৩ মাস সময় লাগতে পারে। ফলে ২০২৩ সালের জুনে চালু হতে পারে বলে জানান বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বলাকা ভবনে থেকে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হওয়ায় বর্তমানে এ প্রকল্পের কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। ফলে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিটে এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর যেতে পারবেন এমন প্রতিশ্রুতিতে চলা এ প্রকল্পে জনগণের ভোগান্তি লাগব হচ্ছে না সহসাই। পাশাপাশি যে প্রকল্প চার বছরে শেষ হওয়ার কথা, সেই প্রকল্প শেষ হতে সময় লেগে যেতে পারে প্রায় একযুগ।

২০.৫ কিলোমিটার দূরত্বের এই সড়কের ১৬ কি.মি. এর কাজ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। যার অগ্রগতি হলো ৮২ শতাংশ। বাকি সাড়ে চার কিলোমিটার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ করে, যার অগ্রগতি হলো ৭২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। দুটো মিলিয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি হলো ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের দুটো দল চীন থেকে এসেছে। তাদের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আশ্বস্ত করেছেন। তাদের কাছে আমাদের মূল তিনটা চাওয়া। ফান্ডের যে ঘাটতি এটা পূরণ করতে হবে। লোকবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা সব বিষয়ে একমত হয়েছে। ’

বিআরটি প্রকল্পের বর্তমান কাজ বন্ধ বলতে নারাজ এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অফিসিয়ালি বলি সাসপেন্ডেট আছে। যে যে পয়েন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সেটা যদি আমাদের পরামর্শকরা সন্তুষ্ট হয়ে যায় তাহলে কাজ শুরু হয়ে যাবে। ’

কাজের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম আপোষ করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরামর্শকরা যখন বলবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, তখনই ফের কাজ শুরু হবে। সেটা আজকে নাগাদ হতে পারে, কালকেও হতে পারে। সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই কাজ শুরু করব। ’ ‘সেটা যদি ১০ দিনও লাগে, ১৫ দিন লাগে’ বলে যোগ করেন তিনি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত ছাড়াই কীভাবে কাজ চলছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাবা যাক আর না যাক ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। এত ঘাটতির পরও ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। যদি এই ঘাটতি না থাকতো কোথাও কোথাও শতভাগ কাজ শেষ হয়ে যেত। তাদের ঘাটতির জন্যই আমরা পিছিয়ে আছি। ’

ঠিকাদারি কোম্পানি কী অবহেলা থেকে ছাড় পেতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘টোটাল কাজ স্টপ করে রেখেছি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যদি শতভাগ নিশ্চিত না হই, তাহলে কোনোভাবেই তাদেরকে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছি না। দেবো না। ’

আগে কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আমি বলেছি। আপনারা সবাই জানেন। তবুও কেন আমকে বিব্রত করেন। আমাদের উপায় নেই। তাদরেকে নিয়ে আমাদের কাজটা করতে হবে ‘।

তদারকি প্রতিষ্ঠানের গাফলতি আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গাফলতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে পারছি না। বাস্তব ব্যাপারটা হলো ঠিকাদারদের উপরে দোষ চাপালেই হয়। পরামর্শ দাতাদের যারা তদারকি করছেন তাদেরও দায় কিছুটা রয়েছে। তবে মূল দায় ঠিকাদারের। ’

নতুন করে সময় বাড়লে কী খরচ বাড়বে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সময় বাড়লেই যে খরচ বাড়বে, বিষয়টা এমন না। কোনো ক্ষেত্রে খরচ বাড়তে পারে। ‘

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।