সীমান্ত সড়কে পাহাড়ে খুলবে সম্ভাবনার দুয়ার

দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। এ অঞ্চলে সীমান্ত পাহারা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, সরকারের সহায়তায় পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজও করছেন তারা। ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর-৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কোর (ইসিবি) তত্ত্বাবধানে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত করে এ কাজের প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়কের সাতটি সেগমেন্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। ২০২৪ সালের মধ্যে সীমান্ত সড়কের কাজ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত সড়ক বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, পর্যটন, কৃষিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে, অন্যদিকে অবৈধ ব্যবসা, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান বন্ধ হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আন্তআঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন হবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলার মধ্যে। গত রবিবার বান্দরবানের থানচি ও আলীকদম উপজেলায় নির্মাণাধীন সীমান্ত সড়কের কাজ পরিদর্শন করতে আসেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কোরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদুর রহমান, বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল হক, সীমান্ত সড়ক প্রকল্প পরিচালক কর্নেল এ এন এম ফয়েজুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রকল্প পরিচালক মেজর সাঈদ মো. জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান বলেন, তিন পার্বত্য জেলার সীমান্ত সড়ক প্রকল্প শেষ হলে জেলাগুলোর মধ্যে আন্তসংযোগ স্থাপন হবে। একই সঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এ সড়ক। উন্নতি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমন একটা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এ কাজের সুফল বইয়ে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। সেনাবাহিনী সরকারি দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, সেনাবহিনী দেশের যেসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করে তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অন্যতম দুর্গম এলাকা। এখানে দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কষ্টের। দেশের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই শৃঙ্খলা শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।