অল্প ব্যবসায় সুখে আছেন বাশার-নিজামরা

কে না চায় তার সংসার হোক সুখের, নির্ভেজাল চিন্তামুক্ত! যার যার অবস্থান থেকে সবাই চায় পরিবার পরিজন ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালো থাকতে। তেমনি লক্ষ্মীপুরের রাস্তাঘাটে ফুটপাতে ছোট ছোট নির্ভেজাল চিন্তামুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা করে সুখে জীবন যাপন করছেন অনেকে।
তাদের কাউকে দিতে হয় না টোল কিংবা চাঁদা। বিগত সময়ের চেয়ে অনেক সুখে আছেন বলে জানান তারা। কেউ ফেরি করে ভ্যান গাড়ি যোগে কাঁচাবাজার, কেউ পপন ভাজা বিক্রেতা, কেউ পান সিগারেট বিক্রেতা, কেউ ঘড়ি মেরামতকারী, কেউ জুতা বিক্রেতা, কেউ ফল কেউ আবার প্রসাধনী কিংবা বসতবাড়ির আসবাবপত্র বিক্রেতা। সততা নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা করে সংসার চালান তারা। কারো কোন দেনা পাওনার চিন্তা নেই তাদের।

তাদের মধ্যে একজন মো. নিজাম উদ্দিন বয়স (৪৫)। পৌর ৬ নং ওয়ার্ডেন বাসিন্দা। জেলা শহরের চকবাজার এলাকায় রাস্তা ঘেঁষে ফুটপাতের সঙ্গে ঘড়ি ক্যালকুলেটর মেরামত করেন তিনি। বিগত ২৬ বছর এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সংসারে স্ত্রী ও ৪ সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। মেজ মেয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে ছেলে হেফজ মাদরাসায় পড়ে। তার মাসিক খরচ সাড়ে ৪ হাজার টাকা। একইভাবে মেজ মেয়ের জন্যও বেশ খরচ করতে হয়। এছাড়া ৪ বছরের আরো একটা শিশু সন্তান রয়েছে। ঘড়ির কাটা ক্যালকুলেটর মেরামত নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি। তার প্রতিটি কাজের মজুরি আসে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এভাব সারাদিনে যা হয় তা নিয়েই সংসারের পরিচালনা। তারপরও কষ্টে নেই। খুবই সুখে আছেন বলেন জানান তিনি।

একইভাবে পৌর ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আবুল বাশার। ছোট একটা কাঠের টুলে পান সিগারেট বিক্রি করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সুখের সংসার। বড় মেয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে ২য় শ্রেণিতে পড়ে। দৈনিক আয় করে ১৮শ থেকে ২২ শ টাকা। আর মাসিক খরচ আছে ১৫ হাজার টাকা। তাতেও কষ্ট হয় না তার।

কলা বিক্রেতা মাহফুজুর রহমান ফুটপাতে বসে বসে কলা বিক্রি করেন। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ী তিনি। যখন যে ফল বাজারে উঠে সেটাই বিক্রি করেন। ধার দেনা কিংবা কোনো ধরনের ঋণ ছাড়াই অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন তিনি। দৈনিক গড়ে ৪-৬ হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। সেই আয়ে চলছে স্ত্রী দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। একইভাবে নির্ভেজাল স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করে দুই ছেলে মেয়ে বিয়ে দিলেন। তবে ঋণ মুক্ত আছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা নির্বিঘ্নে ঘুমায়, আমাদের দেনাপাওনা কিংবা ঋণ কর্জের কোনো চিন্তা নেই। অতীতের চেয়ে বর্তমানে খুব ভালো আছি। কাউকে কোনো চাঁদা দিকে হয় না।

ঘড়ি ক্যালকুরেটর মেরামতকারী মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, টোল চাঁদা কাউকে দিতে হয় না। প্রতিদিন যে আয় হয় তা দিয়েই সুখের সংসার চালায়। সমাজের বড়লোকের চেয়ে সুখে আছি।

পান সিগারেট বিক্রেতা বাশার বলেন, এক হাতের আয় দিয়ে আমার সংসার চলে। কারো কাছে হাত পাতি না। নিজ যোগ্যতার বলে নিজেই স্বাবলম্বী। এই সরকারের আমলে আমরা খুব সুখে আছি।

এভাবে ফুটপাতে ও ফেরি করে পপন বিক্রেতা, জুতা বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, চটপটি বিক্রেতা, আসবাবপত্র বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, আম কাঁঠাল বিক্রেতা, খেলনা বিক্রেতাসহ স্বল্প পুঁজির ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা সুখে আছেন। এসব ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই স্বাবলম্বী।