বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে স্বস্তি ফিরলো শেয়ার বাজারে

শেয়ার বাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ হিসাব এখন থেকে বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে করা হবে। এর ফলে শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম যতই বাড়ুক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়বে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারির পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ার বাজার।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। যদিও আগের সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছিলেন ১০ হাজার ২১০ কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, দরপতনের পর সূচকের উত্থানের ফলে তাদের মধ্যে একটু স্বস্তি বইছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ১৮ আগস্ট ছুটি থাকায় বিদায়ী সপ্তাহে তিন কর্মদিবস লেনদেন হয়েছে। আলোচিত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৪২টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৮৯টির।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহ শুরু হয় ঊর্ধ্বমুখীতা মধ্য দিয়ে। পরের দুই কার্যদিবসেও ঊর্ধ্বমুখী থাকে শেয়ার বাজার। এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।

বাজারের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ১৬৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৭০ দশমিক ৮১ পয়েন্ট। এদিকে বেড়েছে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও। গত সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ২০ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ২৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।

সবকটি সূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৯৬ কোটি ১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়ছে ৫০ কোটি ২২ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। এই হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৭৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মোট লেনদেন কমার কারণ গত সপ্তাহে মাত্র তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। এই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১০ কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক ২৪২ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৩৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮২ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৭৪ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৯৯ টাকা। এর মধ্যে ১৮৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। কমেছে ৫৪টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৭টি কোম্পানির শেয়ারের দর।

Views: 2