আলু সংরক্ষণে ৭৬ উপজেলায় হচ্ছে ৪৫০ মডেল ঘর

আলু সংরক্ষণে দেশের ৭ অঞ্চলের ৭৬ উপজেলায় ৪৫০ মডেল ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদফতর (ডিএএম) এসব ঘর নির্মাণ করবে। ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাটে এসব ঘর নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও অনুমোদন করেছে সরকার।

‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। চাষিদের বসতবাড়ির উঁচু, খোলা ও আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানে বাঁশ, কাঠ, টিন, ইটের গাঁথুনি ও আরসিসি পিলারের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মিত হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি ২০২২ থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় প্রকল্পটি নিজ ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে বাঁশ, কাঠ, টিন, ইটের গাঁথুনি ও আরসিসি পিলার দিয়ে ৪৫০টি আলু সংরক্ষণের মডেল ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি মডেল ঘরকেন্দ্রিক ৩০ জন (কৃষক বিপণন দল) কৃষক সুবিধাভোগী হবেন। এভাবে ৪৫০টি কৃষক বিপণন দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে আলুচাষিদের বিপণন সক্ষমতা বাড়বে।

মন্ত্রী আরো বলেন, চাষিদের আলুর বহুমুখী ব্যবহারবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রফতানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের সঙ্গে ৪৫০ কৃষক বিপণন দলের সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে এখন ৪০ জাতের আলুর চাষ হচ্ছে। বছরে উৎপাদন প্রায় ৯৭ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু সারাদেশে মোট উৎপাদনের বিপরীতে হিমাগারে সংরক্ষণ সুবিধার পরিমাণ ২৮ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টন।

আলু উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য বহুমুখীকরণ না হওয়ায় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এজন্য এ প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।