উন্নয়নের ছোঁয়ায় ভাসছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহলবাসী

মাত্র সাত বছর আগে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত হয়েছে কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের বাসিন্দারা। আর এই সাত বছরে মুছে গেছে দীর্ঘ ৬৮ বছরের নাগরিকত্বহীন অবরুদ্ধ জীবনের গ্লানি আর বঞ্চনার কালিমা। দীর্ঘ ৬৮ বছরের অন্ধকার দুর করে মাত্র সাত বছরে দাসিয়ারছড়ায় পৌঁছে গেছে শিক্ষার আলো। বিদ্যুৎ আসার পাশাপাশি অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে চিকিৎসা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার।

দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের ১৪ হাজার জনসংখ্যার জন্য ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। এর মধ্যে এ বছর ৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২টি ডিজিটাল সেন্টার, পাঁচটি মসজিদ, একটি মন্দির ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ২৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

রোববার (৩১ জুলাই) দাসিয়ারছড়াবাসী রাত ১২টা ১ মিনিটে ৬৮টি মােমবাতি প্রজ্জ্বলন করে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠান পালন করবে। এ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় দাসিয়ারছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাণীর সঙ্গে। সে বলে, আগে ভুয়া পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের স্কুলে পড়তাম। এখন নিজের পরিচয় দিয়ে স্কুলে পড়ছি। খুবই ভালো লাগে।

দাসিয়ারছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান খাঁন বলেন, স্থানীয়দের উদ্যোগে দাসিয়ারছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। এবার এই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়েছে। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে এখানকার নারী শিক্ষার আরও প্রসার ঘটবে।

দাসিয়ারছড়া ডিজিটাল সেন্টারের শিক্ষার্থী সুলতানা পারভীন বলেন, আগে এখানে লেখাপড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না। এখন এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি ডিজিটাল সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। ফলে আমরা বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছি।

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সভাপতি মো. আলতাফ হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিটমহল বিনিময় করে আমাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি এখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও কৃষিতে বেশ উন্নয়ন হয়েছে। এসব উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বলেন, ভারতের যে ১১১টি ছিটমহল ছিল তার মধ্যে সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দাসিয়ারছড়া। এই ছিটমহলটি ৩টি ইউনিয়নের সঙ্গে অন্তরভুক্ত আছে। বাংলাদেশে অন্তরভুক্ত হওয়ার পর তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সরকারের যে সামাজিক বেষ্টনী আছে তা দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশের অন্যান্য নাগরিকদের যে সুযোগ-সুবিধা আছে, তার চেয়ে কিছুটা বেশি পাচ্ছে এখানকার নাগরিকরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ ও ভারত মুজিব-ইন্দিরা সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল দুই দেশের ভূখণ্ডে যুক্ত হয়।