এডিপি বাস্তবায়ন তিন বছরে সর্বোচ্চ

করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিতে যে চাঙ্গা ভাব ফিরেছে তার প্রমাণ মিলেছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে। বিদায়ী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। এই হার গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের সবশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে আইএমইডি।

এর আগে ২০২০-২১ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল যথাক্রমে ৮২ ও ৮০ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ২ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মোট ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৯ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ৯২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এমনটা জানান, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিপির আকার আড়াই লাখ কোটি টাকা। এডিপি বাস্তবায়নের হার বেশি হওয়ার পেছনে কভিড-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন বড় ভূমিকা রেখেছে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রার্দুভাব শুরু হওয়ার পর থেকে উন্নয়ন কাজে ভাটা পড়ে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী বছরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরূপ প্রভাব পড়ে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধীরে ধীরে উন্নয়ন কাজে গতি ফেরে। সে সুবাদে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইএমইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজও শেষ হওয়ার পথে। মেট্রোরেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ বছরের শেষে কর্ণফুলি টানেল খুলে দেয়া হচ্ছে। পায়রা বিদুৎ কেন্দ্রের কাজের অগ্রগতিও সন্তোষজনক। এসব বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলায় এডিপি বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বড় বড় প্রকল্পের কাজ যেভাবে এগিয়ে চলেছে তা অব্যাহত থাকলে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না হলে চলতি অর্থবছরেও এডিপি বাস্তবায়ন ভালো হবে আশা করা যায়।’

জানা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে কাজের অগ্রগতির দিক থেকে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সবচেয়ে ভালো করেছে। এগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিভাগ, রেল মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় উল্লেখযোগ্য। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গড়ে ৯৫ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে।

অপরদিকে বাস্তবায়নের দিক থেকে কম অগ্রগতির তালিকায় বরাবরের মতোই রয়েছে স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবার কল্যাণ বিভাগ। এই দুটি বিভাগের বাস্তবায়নের হার ৭৫ শতাংশ।

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু জুন মাসেই এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৬১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৮ শতাংশ। একক মাস হিসেবে এটি সর্বোচ্চ ব্যয়।

অবশ্য জুনে এডিপি খরচের দিক থেকে এই চিত্র নতুন নয়। অর্থবছরের শেষ মাসে এডিপিতে বেশি খরেচের প্রবণতা বরাবরের।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে টাকা খরচ করা হয়। এতে কাজের মান সন্তোষজনক হয় না এবং সরকারি অর্থের অপচয় হয়। সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে অর্থবছরের প্রথম থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় তদারকির পরামর্শ দিয়ে থাকেন তারা।