দেশের ৫২ উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত

ভূমিহীন ও গৃহহীন আরও ২৬ হাজার ২২৯ পরিবারকে ঘর উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ দেশের ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাঁচটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে এই ঘরগুলো হস্তান্তর এবং গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সেমবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আগামী ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ঘোষণা করতে যাচ্ছি, পঞ্চগড় ও মাগুরায় আর কোনও ভূমিহীন-গৃহহীন নেই। এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন। গত মাসে আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাতে আমাদের মনোবল আকাশচুম্বী হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আনাচে কানাচে মানবতার ছোয়া পৌঁছে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শতভাগ বাস্তবায়ন করা গেছে বাংলাদেশের দুটি প্রত্যন্ত জেলা। সুতরাং উন্নয়নের ছোঁয়া এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হবেন ৫টি প্রকল্প এলাকার সঙ্গে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরকলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী আশ্রয়ণ প্রকল্প, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহান পাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জঙ্গালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি জমির মালিকানাসহ ৬৩ হাজার ৯৯৯টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ জুন জমির মালিকানাসহ ৫৩ হাজার ৩৩০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিত মোট একক ঘর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি। চলমান তৃতীয় পর্যায়ে মোট বরাদ্দকৃত একক ঘরের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮০০টি, যার মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল হস্তান্তরিত হয় ৩২ হাজার ৯০৪টি এবং আগামী ২১ জুলাই হস্তান্তর হবে ২৬ হাজার ২২৯টি। এছাড়া আরও নির্মাণাধীন রয়েছে ৮ হাজার ৬৬৭টি ঘর।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান প্রমুখ।

প্রথম ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড় ও মাগুরা:
জেলার ৫ উপজেলায় চার হাজার ৮৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আশ্রয় পাবেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ৪৯৬টি, বোদা উপজেলায় ৪২৩টি, দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৮০৩টি, তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৭২৭টি এবং আটোয়ারী উপজেলায় ৪০১টি।

মাগুরায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৬৭৮টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০০টি, শ্রীপুরে ১২৩টি, মহম্মদপুরে ১৩১টি, শালিখায় ২২৪টি।

৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলা হল:
ঢাকার নবাবগঞ্জ, মাগুরার সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর, শালিখা; পঞ্চগড়ের সদর, বোদা, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী; মাদারীপুর সদর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মানিকঘঞ্জের ঘিওর ও সাটুরিয়া, রাজবাড়ির কালুখালি, ফরিদপুরের নগরকান্দা, নেত্রকোনার মদন, ময়মনসিংহের ভালুকা, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া; জামালপুরের বক্সীগঞ্জ, চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া, লোহাগড়া; লক্ষীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জ, ফেনীর সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম; গাইবন্দার গবিন্দগঞ্জ, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, নীলফামারীর ডিমলা, নওগাঁর রাণীনগর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, রাজশাহীর মোহনপুর, চারঘাট, বাঘা; বগুড়ার নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া; নাটেরের বাগাতিপাড়া, পাবনার ঈশ^রদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু, সাতক্ষীরার তালা, ঝালকাঠির কাঠালিয়া, পটুয়াখালীর দশমিনা।