জিডিপিতে যোগ হবে ৪৮-৮০ হাজার কোটি টাকা

পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের বর্তমান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সঙ্গে আরও অতিরিক্ত যোগ হবে ৪৮ হাজার থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর গড়ে প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ হারে। জিডিপির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর সেতুর কারণে যোগ হওয়া অর্থও বাড়বে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে অর্থনীতিতে এই পরিবর্তন হবে। ফলে অর্থনীতির আকার আরও বড় হবে।

সূত্র জানায়, সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার ৩ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। ওইসব জেলায় পর্যটন, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ হবে। ঢাকা, উত্তরাঞ্চল ও চট্টগ্রাম থেকে জেলাগুলোতে স্বল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে পদ্মার ওপারে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চলে যাবে। এছাড়া চলাচলে মানুষের সময় বাঁচবে, সাশ্রয় হবে অর্থ। এভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ হবে। ২৬ জুন থেকে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার কথা। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে জাইকার পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সেতুর কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে দেশের জিডিপির হার বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে। ওই সময়ের পর দেশের অর্থনীতির আকার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। কোনো কোনো বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে করোনার কারণে গত দুই অর্থবছর জিডিপিতে একটু হোঁচট খেয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পূর্বাভাস দিয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অর্থনীতিবিদ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন সেতু চালু হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আরও বেশি বাড়বে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বলেছেন, পদ্মা সেতুর কারণে প্রতিবছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ হারে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। প্রতিবছর জিডিপির আকার বাড়ার কারণে টাকার অঙ্কে জিডিপিতে যোগ হওয়া অর্থও বাড়বে।

এদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, পদ্মা সেতু যেসব সময়ে সমীক্ষা করা হয়েছিল তখন অর্থনীতির আকার অনেক ছোট ছিল। কিন্তু গত এক দশকে অর্থনীতির আকার অনেক বেশি বেড়েছে। এছাড়া পায়রাবন্দর নির্মাণ ও মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের কথা জরিপের সময় ছিল না। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে আরও বড় বড় অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে। এসব কারণে সেতু চালু হলে জিডিপিতে এর অবদান আরও বাড়বে। মনে করা হচ্ছে, প্রতিবছর জিডিপি গড়ে ২ শতাংশ হারে বাড়বে। পদ্মা সেতু পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, এই সেতুর কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ২ শতাংশ। এর পেছনে তিনি অর্থনীতির আকার বাড়ার যুক্তি তুলে ধরেছেন।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, পদ্মা সেতুর কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হারে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে সেতুর দুই পারেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সড়কগুলো আরও প্রশস্ত করতে হবে। অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে হবে।

চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৪০ লাখ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর কারণে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়লে আগামী অর্থবছরে এতে যোগ হবে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশ হলে যোগ হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশ হলে যোগ হবে ৬৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হলে যোগ হবে ৮০ হাজার কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপিতে অর্থ যোগ আরও বাড়বে। ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে জিডিপিতে যোগ হবে ৫৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশ হলে যোগ হবে ৬৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশ হলে জিডিপিতে যোগ হবে ৭১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে জিডিপিতে যোগ হবে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরেও জিডিপিতে আনুপাতিক হারে অর্থ যোগ হবে।