পূর্বাচল নতুন শহরে থাকবে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎব্যবস্থা

রাজউক পূর্বাচল নতুন শহরের বিদ্যুৎব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৩ বর্গকিলোমিটারের নতুন শহরটির বিদ্যুৎব্যবস্থা হবে মাটির নিচ দিয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড)। এর মাধ্যমে পুরো শহরের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে পুরো এলাকা হবে তারমুক্ত এবং বিদুৎব্যবস্থা হবে আধুনিক।

‘রাজউক পূর্বাচল নতুন শহরের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নীতিগত অনুমোদনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার দেশের বিভিন্ন শহরকে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় আনতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সিলেট শহরের বিদ্যুতের ঝুলন্ত তার মুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা এ ব্যবস্থায় আনতে কাজ চলছে। ‘ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’ (ডিপিডিসি) এবং ‘ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি’ (ডেসকো) তাদের নিজেদের বিদ্যুৎ বিতরণ এলাকা আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎব্যবস্থায় নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ মে একনেক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা শহরে ইউটিলিটি সার্ভিসগুলোকে সমন্বিত আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। দেরিতে হলেও সে কাজ শুরু হয়েছে।

সরকারের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহরটি পড়েছে ডেসকোর অধীনে। ফলে ২০১৭ সালে ডেসকো পূর্বাচলে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পরামর্শক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০১৮ সালে প্রাক সমীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করে কোম্পানিটি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৩ কিলোমিটার ভৌগলিক আয়তনের পূর্বাচল নতুন শহরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা হবে ১১০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল হবে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ‘প্রিলিমারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল’ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরে ২০২১ সালের ২৪ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্প প্রস্তাবটি স্ক্রিনিং কমিটিতে পর্যালোচনা হয়েছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন উপযোগী হওয়ায় তা অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় ইলেকট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট, ফুটপাথ, গ্রিনফিল্ডের প্রয়োজনীয় ‘রাইট অব ওয়ে’ নিশ্চিতকরণের জন্য রাজউক ও ডেসকোর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এ প্রকল্পের সমীক্ষা করতে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি টর্ন পিটি লিমিটেড অস্ট্রোলিয়ার’ সঙ্গে ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর চুক্তি করেছে ডেসকো। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে।