ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন প্রতিবন্ধী পুষ্পিতা-ফারুকের

আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিক নন তারা। তবে তাদের আছে দৃঢ় মনোবল, চেষ্টা আর অধ্যবসায়। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে স্বপ্ন ছোঁয়ার চেষ্টা তাদের। বলছি টাঙ্গাইলের শারীরিক প্রতিবন্ধী পুষ্পিতা চৌধুরী আর শেরপুরের ফারুক আলম সিদ্দিকীর কথা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) কেন্দ্রে হুইলচেয়ারে চেয়ারে বসে পরীক্ষা দেন পুষ্পিতা। আর শেরপুর থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন ফারুক। তারা দুজনই স্বপ্ন দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।

শনিবার বাকৃবি কেন্দ্রে ঢাবির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তারা অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী পুষ্পিতা টাঙ্গাইলের সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। তার বাবা তুষার কান্তি চৌধুরী আশা করেন তার মেয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে।

পুষ্পিতা বলেন, পরীক্ষার কক্ষে শিক্ষকরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। গত ৪ তারিখেও ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা দিতে বাকৃবি কেন্দ্রে এসেছিলাম। শিক্ষকদের আন্তরিকতায় পরীক্ষা দিতে কোন সমস্যা হয়নি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পুষ্পিতা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।

শেরপুর থেকে আগত ভর্তিচ্ছু আরেক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ফারুক আলম সিদ্দিকী। নিজে লিখতে পারেন না, তাই কলেজ পড়ুয়া ছোটভাইকে এনেছিলেন সঙ্গে। তিনি ২০২১ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবার ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি।

ফারুক আলম বলেন, পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। পরীক্ষা হলে শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক ছিলেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজে লিখতে পারি না। তবুও থেমে থাকতে চাই না।

জানা যায়, সকাল ১১টায় বাকৃবির বিভিন্ন অনুষদীয় কক্ষে অনুষ্ঠিত মোট ৪১২১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৮১০ জন শিক্ষার্থী। কেন্দ্রে উপস্থিতির হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

পরীক্ষার সময় হল পরিদর্শন করেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ঢাবির প্রতিনিধি দল।

হল পরিদর্শন শেষে পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আজ চতুর্থ দিনের মতো ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে প্রতিনিধি দলটি এসেছেন তারা ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলতি মাসের ১৭ তারিখে বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হবে।