স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক

পঁচিশে জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাঙালির স্বপ্নের মিনার-পদ্মা সেতু চালু হতে যাচ্ছে। এটি নিশ্চয়ই নিছক স্টিলের কোনো কাঠামো নয়, পদ্মা সেতু আমাদের আবেগের নাম। জাতীয় অহংকার ও সাহসের আরেক নাম। সক্ষমতার প্রতীক। আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের এক উজ্জ্বল মাইলফলক। বিপুল আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষ দুই চোখ ভরে আমাদের আত্মশক্তির এ প্রতীকটি দেখছে। এ সেতু জাতির আবেগকে কতটা নাড়া দিয়েছে, এর প্রমাণ মেলে যখন মো. জসিম উদ্দিন হাসপাতাল থেকে তার মুমূর্ষু সন্তানকে ষোলো হাজার টাকায় বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তার অন্তিম ইচ্ছাপূরণের জন্য স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখাতে মাওয়ায় নিয়ে যান। একই ভাবে এতদিন বিচ্ছিন্ন থাকা দক্ষিণ বাংলার মানুষের অন্তরে বইছে অন্যরকম এক আনন্দের ঢেউ।

হঠাৎ বিশ্বব্যাপী করোনা সংকট দেখা না দিলে আরও আগেই ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু চালু হয়ে যেত। শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুর কাজটি এগিয়েছে। রাজনৈতিক, কারিগরি ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ মেগা প্রকল্পটি আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশ তার জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের অর্থে এমন একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প সম্পন্ন করার যে সাহস দেখিয়েছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই একটি লড়াকু মন আছে। আর প্রতিকূলতা জয় করে সফল হওয়ার এ সংস্কৃতি জাতির পিতাই আমাদের শিখিয়েছেন। ১৯৫২ সালে নয়া চীনের সংগ্রামী মানুষের সাহসী কর্মযজ্ঞ দেখে তিনি লিখেছিলেন, ‘যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে যারা আবদ্ধ ছিল, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যাদের সর্বস্ব লুট করেছে-তাদের প্রয়োজন নিজের দেশকে গড়া ও জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির দিকে সর্বশক্তি নিয়োগ করা।’ (শেখ মুজিবুর রহমান, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, পৃ. ২৩৪)। ওই বয়সেই বঙ্গবন্ধু মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলেন, কী করে নিজের দেশের মুক্তি নিশ্চিত করবেন। সারাটা জীবন সেই লক্ষ্যে স্থির থেকেই তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন স্বদেশের স্বাধীনতা এবং পরবর্তী সময়ে তার উন্নয়নের জন্য। শূন্যহাতেই তিনি মূলত মানুষের অজেয় প্রাণশক্তিকে পুঁজি করেই স্বদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরের সংগ্রামে নেমে পড়েছিলেন। সেই সংগ্রামী মননের স্বাভাবিক বিস্তার আমরা তার কন্যা শেখ হাসিনার মধ্যেও দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়িতে পা রেখে দুর্বার গতিতে স্বদেশ গড়ার এক অসামান্য লড়াইয়ে নেমেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। স্বীকার করতেই হবে, পদ্মা সেতু সাহসী নেতৃত্বের এক কালজয়ীপরম্পরার ফসল।

বঙ্গবন্ধু এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুজনই দক্ষিণ বাংলার মানুষ। বাবার মতোই বঙ্গবন্ধুকন্যাও এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন। তাই ২০০১ সালের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে মাওয়া ফেরিঘাটের কাছেই এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায় রাজনৈতিক হীনম্মন্যতার কারণে। ২০০৯ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরে এসে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণকে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসেন। শুরুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা, আইডিবি এ সেতুর অর্থায়নের অংশীদার হলেও পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক যুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণেও এ উন্নয়ন অংশীদাররা যুক্ত ছিল। তাই সরলবিশ্বাসেই বিশ্বব্যাংককে যুক্ত করেছিল বাংলাদেশ সরকার। প্রস্তাবিত ১.২ বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পের অর্থায়নে শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসের দাম রাখেনি এ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। অযথাই একটি নোংরা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল মনগড়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে। বেলাশেষে সেই অভিযোগ কানাডার আদালতসহ কোথাও টেকেনি। বিশ্বব্যাংক ছাড়া অন্য উন্নয়ন অংশীদাররা খুবই বিব্রতবোধ করছিল এ অযথা অভিযোগ তোলার জন্য। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্ব তারা মানতে বাধ্য। তবুও এ প্রকল্পটি যাতে এভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে তাদের দৌড়ঝাঁপ আমি দেখেছি। সেসময়ের জাপানি রাষ্ট্রদূত একাধিকবার আমার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং বিশ্বব্যাংকের বাড়াবাড়ির সমালোচনা করেছেন।

সেই সময়টায় আমি খুব কাছে থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরো ষড়যন্ত্রটা কেমন বীরত্বের সঙ্গে লড়ে ভন্ডুল করে দিলেন সে দৃশ্যও দেখেছি। খুবই দ্রুততার সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নিজেদের অর্থে এ মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে বিশ্বকে দেখিয়ে দেবেন আমরাও পারি। আমার বড়ই সৌভাগ্য, ওই সংকটকালে আমি তার পাশেই থাকতে পেরেছিলাম। অর্থ বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও যখন তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় ঊর্ধ্বমুখী। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল। তাই বিশ্বব্যাংকের দেয় ১.২ বিলিয়ন ডলার না নিলেও আমরা আমাদের ব্যাংকিং খাত থেকে এ পরিমাণ বিদেশি মুদ্রায় জোগান দিতে সক্ষম। আমরা জানতাম, এ পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এক বছরেই লাগার কথা নয়। তাই সরকার যদি টাকার জোগান দিতে পারে, আমরা ডলারের জোগান দিতে পারব। দেশবাসী জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-সহযোগিতায় অগ্রণী ব্যাংক এরই মধ্যে ১.৪ বিলিয়ন ডলার পদ্মা সেতুর জন্য দিতে সক্ষম হয়েছে। বাদবাকি ডলারের জোগানও আমাদের ব্যাংকিং খাত দিতে পারবে। এর কারণে আমাদের বিদেশি মুদ্রার বাজারে কোনো টানাপোড়েনই সৃষ্টি হয়নি। বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। সরকার এডিপিতে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আর অগ্রণী ব্যাংক ডলার সরবরাহ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সময় বাড়তি ডলারের প্রয়োজন হলে তা অগ্রণী ব্যাংককে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। খুব সন্তুষ্টির বিষয়, অগ্রণী ব্যাংক সাফল্যের সঙ্গে পদ্মা সেতু বাবদ পুরো বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ করতে পেরেছে। আশা করা যায়, বাদবাকি বৈদেশিক মুদ্রাও সরবরাহ করতে পারবে। আর তা না হলে, বাংলাদেশ ব্যাংক তো আছেই। আমার মনে আছে, বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পরপরই আমার অফিসে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক, অগ্রণী ব্যাংকের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা করেছিলাম এবং কীভাবে এ অর্থের লেনদেন হবে তা নির্ধারণ করেছিলাম। অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ সেই সমঝোতার আলোকেই তারা এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে।

পদ্মা সেতু নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এর সফল সমাপ্তি ঘটে কানাডীয় আদালতে দেওয়া এক রায়ে। ওই রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো সুযোগই ছিল না। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন, বিশেষ করে সেই সময়ে তাদের বিশেষ আইনজীবী (বর্তমানে আইনমন্ত্রী) অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের পেশাদারির প্রশংসা করতে হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই কৃতজ্ঞ, ২০১৬ সালে একটি দলীয় সভায় তিনি পদ্মা সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি মুদ্রার সরবরাহের নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন। বলতে দ্বিধা নেই, এত বড় প্রকল্পের অর্থায়ন বাংলাদেশ নিজেদের সম্পদ থেকেই সম্পন্ন করতে পারে-সেটিই ছিল এ পদ্মা সেতু বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সেসময়ে প্রবাসী বাঙালিদের যে দেশপ্রেমের প্রকাশ দেখেছি, তা সত্যি মনে রাখার মতো। তাদের কাছ থেকে কত যে ই-মেইল এবং খুদেবার্তা পেয়েছি, তা বলে শেষ করা যাবে না। কোন ব্যাংকের কোন হিসাবে তারা ডলার পাঠাবেন, সে রকম প্রশ্নবাণে আমি জর্জরিত হয়েছি। আমাদের রোদে পোড়া পরিশ্রমী প্রবাসী কর্মীদের দেশের জন্য কিছু করার এ আকুতি সত্যি অসাধারণ। তাদের প্রতি রইল অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের প্রবাসী ভাইবোনরাও নিশ্চয়ই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের অনুষ্ঠান দেখে উদ্বেলিত হবেন। আমি নিশ্চিত যুগে যুগে বাঙালির কাছে ইতিহাসের এ মুহূর্তটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সেতু নির্মাণে কারিগরি চ্যালেঞ্জও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আমাজনের পর সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মা। মাওয়া পয়েন্টে স্রোতের বেগ সবচেয়ে বেশি। এমন নদীতে পিলার বসানো চাট্টিখানি কথা নয়। বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পিলার (১২৮ মিটার) স্থাপন করতে হয়েছে এ সেতুতে। মাঝে ২০২০ সালে বর্ষাও ছিল প্রবল। বন্যাও হয়েছে কয়েকবার। তাই সে বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্প্যান বসানোর কাজ বন্ধই ছিল। বিদেশ থেকে বিরাট সব যন্ত্রপাতি আনতে হয়েছে। কারিগরি নকশা বদলাতে হয়েছে। দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের সমন্বয়ও করতে হয়েছে। তাছাড়া করোনার কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকদের কাজও বন্ধ ছিল কয়েক মাস। এসব কারণে এ সেতু নির্মাণে বেশ খানিকটা বিলম্ব হওয়া অস্বাভাবিক ছিল না। তা সত্ত্বেও এ কথাটি স্বীকার করতেই হবে, প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এ সেতু নির্মাণের কারিগরি কমিটির প্রধান হিসাবে দারুণ কাজ করে গেছেন। তার টিমের অন্য সদস্যদের অবদানও জাতি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক যেসব অভিযোগ তুলেছিল, সেগুলো যে কতটা মনগড়া ছিল, এ নিয়ে জামিল স্যার আমার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপও করেছিলেন। অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও সুভাষ সিংহ রায়ের পদ্মা সেতু বিষয়ে সংকলিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সময় স্যার পাঠক সমাবেশে এসেছিলেন। আমিও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম একজন অতিথি হিসাবে। সেদিনও তিনি বিশ্বব্যাংকের অন্যায় আচরণের সমালোচনা করেছিলেন।

এতসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। সময়মতো শেষ না করতে পারায় এ মেগা প্রকল্পের খরচও বেড়ে গেছে। তা সত্ত্বেও এ বিশাল কর্মযজ্ঞ থেকে আমাদের প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মীরা অনেক কিছুই শিখেছেন। ভবিষ্যতে আমরা আরও জটিল ও বড় সেতু নির্মাণ নিজেরাই হয়তো করতে পারব। বিদেশি কন্ট্রাক্টরদের বাইরে আমাদের দেশি নির্মাণ সংস্থা আবদুল মোমেন গ্রুপও পদ্মা সেতু নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনীর একটি চৌকশ দল এসব কাজ সমন্বয় করছে। সেনাবাহিনীর ওই দলের পক্ষ থেকে বছর চারেক আগে আমাকে প্রকল্পটির কাজ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। খুব কাছে থেকে দেখেছি কী দারুণ নিষ্ঠার সঙ্গেই না তারা এ সেতুর কাজ করছিলেন। প্রতিকূল পরিবেশে রাতদিন খেটে তারা আমাদের স্বপ্নের সেতু গড়ে তুলেছেন পরম মমতায়।

আবেগ ও উচ্ছ্বাস বাদেও পদ্মা সেতুর প্রভাবে বাংলাদেশের, বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, এ বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই। নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতিতে পড়বে ব্যাপক প্রভাব। এ অঞ্চলের একুশ জেলার অর্থনীতি ও সমাজে আসবে অকল্পনীয় পরিবর্তন। এ সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেল-দুই পথেই দক্ষিণ বাংলার মানুষ অল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। দিনের পর দিন আর পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় বসে থাকবে না। আর ঝড়বৃষ্টিতে ফেরি বন্ধ থাকার কারণে মানুষের যাতায়াতও থমকে থাকবে না। সেতুটির কারণেই প্রথমবারের মতো পুরো দেশ একটি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোতে চলে আসবে। দক্ষিণ বাংলার গ্রামেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে। এ অঞ্চলের কৃষক, মৎস্যজীবী, তাঁতি, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তার সমাবেশ যে রাজধানী ঢাকা, তার সঙ্গে অনায়াসে সংযুক্ত হতে পারবেন। অন্যদিকে তারা রাজধানী থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারবেন তাদের গ্রামের ও আশপাশের এসএমই উদ্যোগগুলোর জন্য। এরই মধ্যে পদ্মা সেতু হবে শুনেই ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হতে শুরু করেছে। বরিশাল শহরের আশপাশের জমির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর দুই পারেই এক্সপ্রেসওয়ের পাশের জমির দাম তিন-চারগুণ বেড়ে গেছে। নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, আবাসন প্রকল্প, রিসোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট ও নানা ধরনের এসএমই উদ্যোগ স্থাপনের হিড়িক পড়ে গেছে। খুলনা ও বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রসার ঘটতে শুরু করেছে। কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছে দ্রুতগতিতে। আগামী দিনে বিকাশের এ ধারা আরও বেগবান হবে। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেলের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোও স্থাপিত হবে। এর ফলে কলকাতার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এর প্রভাব বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের পণ্যসেবার পরিমাণ বাড়বে। নতুন নতুন জাহাজ ভিড়বে। ইন্টারনেট সেবা সহজেই পেলে দক্ষিণাঞ্চলে ডিজিটাল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা বাড়বে। আর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য হলে এ অঞ্চলে ব্যবসাবাণিজ্যের বিকাশও ঘটবে। কৃষিসহ দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্যেও বিনিয়োগ বাড়বে। বাড়বে কর্মসংস্থান। আর সেটা হলে এখন যে জলবায়ু চ্যালেঞ্জের শিকার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক কাজকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সংখ্যা কমে আসবে। দক্ষিণ বাংলায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন নতুন শহরও গড়ে উঠবে।

ঢাকার কাছে বলে পদ্মার ওপারে ছোট-বড় নানা শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। দক্ষিণ বাংলা হবে পর্যটনের এক উৎকৃষ্ট হাব। ছুটি পেলেই ঢাকা ও অন্যান্য নগরের বাসিন্দারা ছুটবেন দক্ষিণ বাংলার প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের সন্ধানে। তারা যাবেন কুয়াকাটা, সুন্দরবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি পরিদর্শনে, যাবেন পায়রা বন্দরে। পদ্মার চরগুলোয় গড়ে উঠবে নতুন নতুন রিসোর্ট ও পরিকল্পিত ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র। সরকারও এরই মধ্যে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে পদ্মাপারের পুরো এলাকাকে উন্নত করার লক্ষ্যে। শোনা যাচ্ছে, পদ্মার চরাঞ্চলে অলিম্পিক ভিলেজ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি, হাইটেক পার্ক, আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র, বিমানবন্দরসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা ভাবছে সরকার। পদ্মা সেতুর কাছেই দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি গড়ে উঠছে। এখানে থাকবে আধুনিক আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব সুযোগ-সুবিধা। পদ্মা সেতুর আশপাশে গার্মেন্ট ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটবে। খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে শিপ-বিল্ডিং শিল্পের বিকাশ ঘটবে। মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা ইপিজেড, পায়রাবন্দর, রূপপুর প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা গেলে এসব প্রকল্পে বিপুল কর্মসংস্থান ঘটবে। একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বছরে প্রায় বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির ১.০৪ শতাংশের কর্মসংস্থান হবে। আরও সহজ করে বলা যায়, আগামী পাঁচ বছরে দশ লাখ অর্থাৎ বছরে দুই লাখ মানুষের নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে। দশ বছর পর এ সংখ্যা তিনগুণ হয়ে যাবে।

দক্ষিণ বাংলায় বাংলাদেশের সাতাশ শতাংশ মানুষের বাস। বিচ্ছিন্ন থাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলের দারিদ্র্যের হার সারা দেশের গড় হার থেকে পাঁচ শতাংশ বেশি। সেতুর কারণে যোগাযোগ ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হলে এ অঞ্চলের দারিদ্র্যের হার ফি বছর ১.০১ শতাংশ হারে কমবে। এর প্রভাবে সারা দেশের দারিদ্র্য কমবে ০.৮৪ শতাংশ হারে। বিসিক বলছে, আগামী পাঁচ বছরে শুধু বরিশাল বিভাগেই পাঁচশ থেকে এক হাজার নতুন শিল্পকারখানা স্থাপিত হবে।

নিঃসন্দেহে সেতুটি চালু হওয়ার পর দক্ষিণ বাংলায় শিল্পকারখানা স্থাপনে আরও বেশি করে উৎসাহী হবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। তাদের যেন বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তি পেতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা এখন থেকেই সংশ্লিষ্টদের দেখতে হবে। উদ্যোক্তাদের পদ্মার ওপারে যেতে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। করোনাকালে এসএমই খাতে যেভাবে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়েছিল, সেরকম বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ দক্ষিণ বাংলার জন্য অন্তত আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণ করা যায় কি না, বিষয়টি নীতিনির্ধারকরা ভাবতে পারেন। আমাদের উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বরাবরই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সাম্যের পক্ষে। তারাও পদ্মা সেতুর কল্যাণে দক্ষিণ বাংলায় ব্যবসাবাণিজ্য প্রসারের যে বিরল সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, এর সদ্ব্যবহারের জন্য তাদের তৈরি স্টার্টআপ তহবিলের একটি অংশ এ অঞ্চলে বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করতে পারে। সম্প্রতি জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখান থেকে অন্তত এক-চতুর্থাংশ তহবিল দক্ষিণ বাংলায় বিনিয়োগ করার জন্য নীতি সিদ্ধান্ত নিশ্চয় নিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ্মা সেতুর কারণে পরিবহণ সহজ হওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যের লিডটাইম কমে যাবে। ফলে ব্যবসায়ীদের রিটার্ন বা লাভ বেড়ে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে টাকাও হাত ঘুরবে দ্রুত হারে। অর্থনীতিতে যুক্ত হবে বহুমুখিতা। বাড়বে মানুষের আয়-রোজগার। বাড়বে ভোগ ও চাহিদা। আর সে কারণেই দক্ষিণাঞ্চলে বাড়বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক লাভের হার (ইআরআর) ১৮-২২ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে একত্রিশ বছরের মধ্যেই এ সেতুর পুরো খরচ উঠে আসবে। সেতু চালু হওয়ার পর উপযুক্ত সহায়ক সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা গেলে আরও কম সময়ের মধ্যে এ বিনিয়োগ বাবদ অর্থ পুরোপুরিই উঠে আসবে। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর উত্তরবঙ্গে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের আর্থসামাজিক পরিবর্তন আরও দ্রুত লয়ে ঘটবে। কেননা পদ্মা সেতুর কারণেই আঞ্চলিক যোগাযোগ এক নতুন মাত্রা পাবে। ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে ও রেলওয়ের সঙ্গে পুরো বাংলাদেশের সংযোগ ঘটবে। তাছাড়া তামাবিল থেকে বেনাপোল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফলে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যে বিস্ফোরণ ঘটবে।

অর্থনীতিবিদরা মডেলিং করে হিসাব করছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের জিডিপি অন্তত ২.৫ শতাংশ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে তখন দেশের জিডিপি বাড়বে অন্তত আরও ১.২৩ শতাংশ। ট্রান্স এশিয়ান রেল ও সড়ক এ সেতুর মাধ্যমেই যুক্ত হবে। রেলের প্রভাবে জাতীয় জিডিপিতে আর এক শতাংশ যোগ হবে প্রতিবছর। ২০২৪ সাল নাগাদ ২৪ হাজার যান চলাচল করবে এ সেতু দিয়ে। প্রতিবছর তা বাড়বে। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৬৭ হাজারে উঠে যাবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অংশ হিসাবেই সেতুর আশপাশে অনেকটা নদীর পাড় নদী শাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় নদীভাঙন রোধ করা গেছে। সেতু নির্মাণের কারণে যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, জমির দামের কয়েকগুণ ক্ষতিপূরণ ছাড়াও পরিকল্পিত উপায়ে তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাই এ অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাসহ মানব উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। আমরা লক্ষ করেছি, বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রভাবে প্রতিবছর দুই শতাংশের মতো নতুন করে দেশের জিডিপিতে যোগ হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে চরম খাদ্যাভাব বা মঙ্গা পালিয়েছে। পদ্মা সেতুর কল্যাণে দক্ষিণ বাংলায়ও অনুরূপ ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, তেমনটিই আমরা আশা করছি।

সচেষ্ট বাংলাদেশ আত্মশক্তিকে বলীয়ান হয়ে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই হেঁটে সোনার বাংলার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে-সেই আশায় বুক বেঁধে বসে আছি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমি মানবের অসাধ্য সাধন ও দুরূহ বাধা অতিক্রমের অদম্য শক্তির প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থার কথা আবার ঘোষণা করতে চাই।’ সেই অদম্য লড়াকু মনের উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুকন্যাও তার বাবার মতোই বিশ্বাস করেন, ‘জীবনযুদ্ধের মোকাবিলায় জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞাই শেষ কথা। আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনিও মনে করেন, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমাদের কষ্ট স্বীকার করতে হতে পারে। কিন্তু আমাদের কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সেই সক্ষমতার প্রতীক। আমাদের পুঞ্জীভূত আত্মশক্তির সমাহারে তৈরি আত্মপ্রত্যয়ের এক অসাধারণ স্বপ্নের মিনার। এ পদ্মা সেতু যেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সেই অমর বাণীরই এক প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের বাঁচিবার উপায় আমাদের নিজেদের শক্তিকে সর্বতোভাবে জাগ্রত করা।’ (আত্মশক্তি, রবীন্দ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ৬৪৪)। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের সেই ভরসার বাণীই শুনিয়েছিলেন যখন অন্তরের গহিনতর তল থেকে বলে উঠেছিলেন, ‘পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের সম্পদেই গড়ে তুলব।’ আর সেই অঙ্গীকার তিনি পূরণ করতে পেরেছেন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই। শুধু পদ্মা সেতু কেন, আরও কয়েকটি পরিবহণ সম্পর্কিত মেগা প্রকল্প এখন দৃশ্যমান। আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই এসব প্রকল্পও চালু হবে। তখন বাংলাদেশের চেহারাটাই বদলে যাবে। নিঃসন্দেহে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। তা সত্ত্বেও দ্রুত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন বড় প্রকল্প যথা: কর্ণফুলি টানেল এবং বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্কসহ অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার বিচক্ষণতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন। পঁচিশে জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য অর্থনৈতিক মুক্তির মহাসড়কে আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো জাতির মননে ‘আমরাও পারি’ ধারণাটি গেঁথে দেবেন। আসুন সর্বক্ষণ হতাশা না ছড়িয়ে আশা করার অধিকারের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করি। এ সেতু শুধু তিন কোটি মানুষের ভাগ্য সরাসরি বদলে দেবে তাই নয়, পুরো জাতির মনে বুনে দিতে যাচ্ছে আরও বড় হওয়ার ‘আশার স্বপন’।

ড. আতিউর রহমান : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক; বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর