বাঘা থেকে আমের প্রথম চালান যাচ্ছে ইংল্যান্ডে

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে আমের প্রথম চালান যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও হংকংয়ে। বুধবার (১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া থেকে কৃষি অধিদপ্তরের প্রজেক্ট পরিচালক (পিডি) তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কৃষিবিদ শফিউল্লাহ সুলতান বিদেশে আম রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপজেলার আম চাষিদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। ইংল্যান্ডে এক মেট্রিক টন খিরসাপাত (হিমসাগর) এবং হংকংয়ে ৫০০ কেজি আম পাঠানো হচ্ছে। উপজেলা থেকে লি এন্টারপ্রাইজ ও মাহাতাব এন্টারপ্রাইজ রপ্তানি শুরু করেছে।

স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, আজ থেকে আম রপ্তানি শুরু হলো। এ বছর আম রপ্তানির জন্য বড় টার্গেট রয়েছে। রপ্তানির জন্য উপজেলার ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতির ২৫ জন আম চাষিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বাগানে উৎপাদিত ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত আম ঢাকায় বিএসটিআই ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করে বিদেশে পাঠানো হয়।

বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের সফল আম চাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, লি এন্টারপ্রাইজের এবং মাহাতাব এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে আমাদের আম বিদেশে যাচ্ছে, এটি খুশির খবর। আম বিদেশে গেলে আমরাও বেশি লাভবান হই। আমরা চাই অনেক বেশি আম বিদেশে যাক।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কৃষিবিদ শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আম চাষ কঠিন হলেও আমে যাতে কোনো ধরনের পোকার আক্রমণ না ঘটে এজন্য ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতির ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এতে খরচ যেমন বাড়ছে তেমনি আমের গুণগত মানও বাড়ছে। ফলে বিদেশি ক্রেতারা আম কিনতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। রাজশাহী অঞ্চলের এই উপজেলায় সবচেয়ে সুস্বাদু আম উৎপাদন হয়। ফলে এখান থেকে আম রফতানি শুরু করা হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তরের প্রজেক্ট পরিচালক (পিডি) তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি বলেন, দেশের আম বিদেশে যাচ্ছে, এটি দারুণ বিষয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, চাষিদের আয় বৃদ্ধি করা। যেটি আম রফতানির মাধ্যমে সম্ভব। এবার অনেক বেশি আম বিদেশে পাঠানো টার্গেট রয়েছে।