আটলান্টা চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পেল নুহাশ হুমায়ুনের ‘মশারি’

বাংলাদেশের এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ুন। তরুণ এই নির্মাতার হরর শর্ট ফিল্ম “মশারি” আটলান্টা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (এএলটিএফএফ) ২০২২-এ সেরা ন্যারেটিভ শর্ট ফিল্ম ক্যাটাগরিতে জুরি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাতে নুহাশ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নুহাশ বলেন, “মশারি এখন অস্কারের যোগ্যতা অর্জন করছে! আমাদের বাংলাদেশি হরর ফিল্মটি সবেমাত্র সেরা ন্যারেটিভ শর্টের জন্য আটলান্টা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল জুরি পুরস্কার জিতেছে, এটি একটি অস্কার কোয়ালিফাইং পুরস্কার। এই যাত্রার অংশ হওয়ার জন্য আমার অবিশ্বাস্য দল, আমার পরিবার, বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের বাইরের শিল্প সহকর্মীদের ধন্যবাদ।”

এ বছরের মার্চে “২০২২ এসএক্সএসডব্লিউ” ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে “মশারি”-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল। ২২ মিনিটের এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন “ন ডরাই”-খ্যাত অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল এবং নুহাশের ভাগ্নি ও অভিনেত্রী শীলা আহমেদের মেয়ে নাইরা ওনোরা সাইফ।

ফিল্মটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া সারসংক্ষেপ অনুসারে, বিশ্ব যখন রক্তপিপাসু প্রাণীদের দ্বারা ছেয়ে গেছে, তখন শেষ মানবজাতি ঢাকায় তাদের জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেয় মশারির মধ্যে। অজানা শত্রু থেকে বাঁচার একমাত্র পরিচিত আশ্রয়স্থল মশারি। দুই বোন- অপু (সুনেহরা) এবং আয়রাকে (নাইরা) বেঁচে থাকার জন্য এই অদ্ভুত নতুন পৃথিবীতে যুদ্ধ করতে হবে। তবে, তাদের মধ্যকার সম্পর্কের দ্বন্দ্ব বাইরের বিপদের মতোই হুমকি হয়ে ওঠে। এক রাতে আয়রার কৌতূহল তাকে মশারির নিরাপত্তার বাইরে নিয়ে গেলে তাকে রক্ষা করতে দানবদের মুখোমুখি হতে হয় অপুকে।”

পুরস্কার-মনোনীত চলচ্চিত্রটির বর্ণনা দিতে গিয়ে এএলটিএফএফ জুরি জানিয়েছে, পরিচিত হরর উপাদানগুলোর সঙ্গে মিলে “মশারি” সম্পূর্ণ বিস্ময়কর একটি প্রান্ত তৈরি করে যা বাস্তব বিশ্বের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন এক জগতে নিয়ে এসেছে।

নুহাশ বলেন, “আমি মশারির সঙ্গে আমাদের অদ্ভুত সম্পর্কটিকে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। নিরাপত্তা এবং শ্বাসরোধ উভয়েরই একটি রূপক অর্থে। বাংলাদেশের ভয়, বিস্ময় আর রহস্যের সুনির্দিষ্ট মিশ্রণ মশারি।”