সোনাইমুড়ীতে বোরোর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

অনুকূল আবহাওয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলাতে। এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস বৈদেশিক রেমিট্যান্স হলেও আদিকাল থেকেই বোরো ধান চাষ করে আসছে কৃষকরা। বোরো ধানচাষের ফলে এখন সোনালী ধানের সমারোহে মুখরিত দিগন্তজুড়ে। ধানের বাম্পার ফলনের ফলে কৃষকের মুখে ফুটেছে কাঙ্খিত হাসি।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক। এই মৌসুমে উপজেলায় ৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ করেছে। এ বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৮১ মেট্রিকটন। তবে মোট লক্ষ মাত্রার চেয়ে ১ হাজার মেট্রিকটন বেশি ফসল উৎপাদনের আশা করছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, এ বছর ধানের মণ প্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১হাজার ৪০ টাকা। বাংলাদেশর বিরি, বারি, বিনা এই তিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উপসী জাতের ধান উৎপাদন হয়ে আসছে। তবে হাইব্রিড ও হীরা চীনের গবেষণায় তৈরি হলেও উৎপাদন বেশি হচ্ছে এসব ধানে। রোপণের ১৩৫ থেকে ১৫৫ দিনের মধ্যেই আসে এজাতীয় ফসল।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলায় প্রায় ৪৩ হাজার ৯শ’ জন কৃষক রয়েছে। যার মধ্যে কৃষি কার্ড ধারি রয়েছেন ২৫ হাজার ৮ জন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে এই উপজেলার ৩ হাজার ৪ শত জন কৃষককে দেয়া হয়েছে ২ কেজি করে হাইব্রিড ধানের বীজ। ১ হাজার ৫শ’ কৃষককে দেয়া হয় ৫ কেজি করে দেশিয় ধানের বীজ। ৪০৬ জন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষককে দেয়া হয় সার ও কীটনাশক।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটার জন্য মাটি কাটার কারণে এই উপজেলার প্রায় ১২৫ হেক্টর ফসলি জমি পড়ে আছে অনাবাদি। তবে উৎপাদিত জমিতে পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ কেউ দল বেঁধে কাস্তে দিয়ে কাটছেন ধান। কেউবা ধান কাটার যন্ত্র (কম্বাইন-হারভেস্টার) দিয়ে, একই সাথে ক্ষেতের ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই করে বস্তাবন্ধি করছেন। এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এখন জমিতে পানি না জমলেও গত ২-৩দিন ধরে চোখ রাঙাচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়। তাইতো ঝড়বৃষ্টির ভয়ে আধাপাকা ধানও কেটে ফেলছে কৃষকরা।

উপজেলা রাজিবপুরের বর্গাচাষি মো. বাবুল মিয়া বলেন, কম খরচে বিষমুক্ত বোরো ধান নিজে চাষ করেছি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার অশানুরূ ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দামও চাহিদা মতো পাওয়ায় আমরা খুশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই প্রকৃতপক্ষে আমাদের মুখে হাসি ফুটবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে আবাদ করা ফসলের ২৫% ধান কেটেছেন কৃষকরা। নেই শ্রমিক সংকটও। তাছাড়া ধান কাটার একাধিক অত্যাধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলনে কৃষকরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।